
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৫, ১৬:৫৭

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে এক কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নাহিদুর রহমান। সোমবার দুপুরে উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নে এক কিশোরীর বাল্যবিয়ের আয়োজন চলছিল গোপনে। তবে স্থানীয় এক সচেতন নাগরিকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইউএনও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
ইউএনওর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সালমা বেগম। তারা কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করার উদ্যোগ নেন। প্রথমে কিশোরীর অভিভাবকরা বিব্রত হলেও পরে প্রশাসনের ব্যাখ্যা শুনে তাদের অবস্থান পরিবর্তন হয়।
ইউএনও ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বাল্যবিয়ের আইনগত দিক ও সামাজিক ক্ষতি সম্পর্কে অভিভাবকদের বিস্তারিতভাবে বোঝান। তারা বলেন, বাল্যবিয়ে শুধু একজন মেয়ের স্বপ্ন ধ্বংস করে না, বরং গোটা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
পরিবারের সম্মতিতে অবশেষে বিয়ের আয়োজন বন্ধ হয়। ওই সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কিশোরীর বাবাকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রশাসনের এ ধরনের কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ইউএনও মোঃ নাহিদুর রহমান বলেন, গোয়ালন্দে যাতে কোনো কন্যাশিশু বাল্যবিয়ের শিকার না হয়, সে লক্ষ্যে আমরা প্রতিনিয়ত নজরদারি চালাচ্ছি। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করতে সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রচার চালানো হবে।

তিনি আরও বলেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। আমরা চাই, প্রত্যেক শিশু তার স্বপ্ন নিয়ে বড় হোক, আগাম কোনো দায়িত্বে না জড়িয়ে পড়ুক।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এর আগেও এমন কয়েকটি বাল্যবিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে। তবে এবারের ঘটনাটি অন্যরকম বার্তা দিয়েছে—প্রশাসন কঠোর, আর কেউ রেহাই পাবে না।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

গোয়ালন্দের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন সচেতনতামূলক অভিযান শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।