প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:১০

যুক্তরাষ্ট্র কাতারসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জব্দ করে রাখা ইরানের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। শনিবার এক ইরানি কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে তারা ‘সদিচ্ছার পরীক্ষা’ হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত দেয় যে ওয়াশিংটন সম্ভাব্য আলোচনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
তিনি আরও জানান, জব্দ সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি সরাসরি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। ইরান যদি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাধাহীন চলাচল নিশ্চিত করে, তবেই যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এগোবে।
এর আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্পষ্ট করে বলেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এবং জব্দ সম্পদ মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা শুরু করবে না।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন দেশে আটকে রয়েছে। তেল ও অন্যান্য পণ্য বিক্রির বিলিয়ন ডলার দীর্ঘদিন ধরে ফেরত পায়নি তেহরান, যা তাদের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর টানা প্রায় ৪০ দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সেটি শুরু থেকেই নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। তিনি দাবি করেন, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।