
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৪, ২২:৯

ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আগানগর এলাকা থেকে ৮ মাসের শিশু সাইফান মজুমদারকে উদ্ধার করেছে র্যাব। রোববার (১৩ অক্টোবর) সকালে আইসক্রিম কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়। পরবর্তীতে, এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে র্যাব দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
সাইফানের মা সাকিলা এনাম ও বাবা এনামুল হক মজুমদার। জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর, তানজিলা আক্তার পারভীন (৩৫) সাকিলার বাসায় এসে তার অসহায়ত্বের কথা বলে কাজের জন্য আশ্রয় চায়। সাকিলা মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে আশ্রয় দেয়। পরদিন, সাকিলা’র মেজো ছেলে আহনাফ (৬) আইসক্রিম খেতে চাওয়ায় তানজিলা সাইফানকে নিয়ে দোকানে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও সাইফান ও তানজিলার খোঁজ না পেয়ে সাকিলা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন এবং আশেপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।
পরে সাকিলা বুঝতে পারেন, তানজিলা সাইফানকে অপহরণ করেছে। তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। র্যাব-১০ এর সহকারী মিডিয়া কর্মকর্তা তাপস কর্মকার জানিয়েছেন, অপহরণের ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে প্রচার পেলে র্যাব-১০ এর একটি দল অভিযান শুরু করে।
অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার (১৪ অক্টোবর) সকালে শরীয়তপুর জেলার পালং থানার চরলক্ষী নারায়ণ এলাকায় যৌথ অভিযানে তানজিলাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানজিলা সাইফানকে অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করে এবং তার দেখানো মোতাবেক শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

তানজিলার পেছনের কাহিনী জানিয়ে তিনি বলেন, তার বাবা-মা নেই এবং বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যার কারণে সে অব্যাহতভাবে বিতর্কের সম্মুখীন হয়। ১২ বছর আগে বিয়ে হওয়া স্বামী একাধিক স্ত্রী নিয়ে সংসার করায়, তানজিলার সংসারে অশান্তি বাড়ে। এরপর স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনি আবারও প্রবাসী এক ব্যক্তির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, কিন্তু সন্তান না হওয়ার কারণে তাদের সম্পর্কেও সমস্যা দেখা দেয়।
তানজিলা পরিকল্পিতভাবে সাইফানকে অপহরণ করে, কারণ সে সাকিলার পরিবারের সম্পর্কে আগে থেকেই জানত। সাইফানের উদ্ধারের পর তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে।
এ ঘটনায় সমাজের নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।