
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৪, ০:৪৪

ঝালকাঠির নলছিটির সুবিদপুর ইউনিয়নের তালতলা বাজারে বিভিন্ন দোকান এবং সরকারি স্টলের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুবিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সহিদ খান ও কৃষক দলের সভাপতি আব্দুস সত্তার পিন্টুর বিরুদ্ধে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, বিএনপির নেতারা নিয়মিতভাবে অফিস খরচসহ নানা অজুহাতে টাকা দাবি করেন এবং কিছু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তালতলা বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন যে তারা মোটা অঙ্কের টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। যারা টাকা ফেরত চাইতে যান, তাদেরকে ভয় দেখানো হয়। এমনকি, কৃষক দলের সভাপতি পিন্টু তাদের বিরুদ্ধে ধমক দেন। এ ছাড়া, টিসিবি ও রেশন কার্ডের পণ্য সরবরাহকারী গ্রাহকদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।
একাধিক বিএনপি নেতা জানান, "দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে গুটিকয়েক ব্যক্তি অতি উৎসাহী হয়ে এসব কর্মকাণ্ড করছে। আমরা জেলা নেতাদের কাছে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছি।" পুরো ইউনিয়নে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে ইজারাদার তৈয়ব আলী বলেন, "বিএনপির অফিস খরচের কথা বলে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন পিন্টু।" স্বরূপকাঠির ফার্নিচার মিস্ত্রি মামুন জানান, তৎকালীন আওয়ামী নেতাদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ২০ হাজার টাকায় সরকারি স্টল ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু তার কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে।


শ্রমিকদলের সভাপতি মো. আজিজ খান, যুবদল নেতা জালাল খান এবং অন্যান্য নেতারা এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তারা বলছেন, "এমন চাঁদাবাজি দলের জন্য হুমকি। তাদের লাগাম টানার সময় এসেছে।"
এদিকে, আব্দুস সত্তার পিন্টু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমি কারো কাছে টাকা চাইনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার হচ্ছে।" নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান হেলালও জানান, যদি কেউ অভিযোগ করে, তবে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে, এবং তারা আশা করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।