প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২১:২৭
মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হাজার হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে এদেশে প্রবেশের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং তাদের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মংডু অঞ্চলে সেনাবাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। এই সংঘাতের কারণে অনেক রোহিঙ্গা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। কিছু রোহিঙ্গা দালালদের মাধ্যমে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। বর্তমানে সরকারি তথ্য মতে, ৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে, তবে স্থানীয়দের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়েও অনেক বেশি।
অন্যদিকে, সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্ট গার্ড তাদের টহল বাড়িয়েছে। সত্ত্বেও, কিছু দালাল রাতে সীমান্ত পার করে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে। এসব দালাল মাথাপিছু ২০-২৫ হাজার টাকা নিয়ে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে বাংলাদেশে প্রবেশের ব্যবস্থা করছেন।
রোহিঙ্গাদের নতুন আগমনের কারণে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, মিয়ানমার থেকে প্রতিদিন বিকট আওয়াজ আসছে, যা সীমান্ত এলাকার বাড়িঘর কাঁপিয়ে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্তবাসীরা রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না।
নতুন আসা রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, মংডু টাউন এবং আশপাশের গ্রামগুলোর মানুষ সেনা ও আরাকান আর্মির গোলাগুলির কারণে পালিয়ে গেছে। তারা বলেন, "এমন পরিস্থিতিতে আমাদের অন্য কোনো স্থান ছাড়া বাংলাদেশেই আশ্রয় নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।"
সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি ও কোস্ট গার্ড তাদের কার্যক্রম জোরদার করেছে। বিজিবির টেকনাফ ২ অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ মহিউদ্দীন আহমেদ জানান, সীমান্তে অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে তারা তৎপর রয়েছেন। "রাতের অন্ধকারে সীমান্তে দালালদের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে আমরা কঠোর নজরদারি ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছি," বলেন তিনি।
এছাড়া, টেকনাফ ও হ্নীলার সীমান্ত পয়েন্টগুলো দিয়ে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে এবং বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের হাতে আটক হওয়া রোহিঙ্গাদের পুনরায় মিয়ানমারে পাঠানো হয়েছে।
মিয়ানমারের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং সীমান্তে রোহিঙ্গাদের আগমনের এই ধারাকে মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।