
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৪, ২২:৪৬

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর বলদিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে একজন আবেদনকারী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। দীর্ঘদিন যাবত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষককের পদ শূন্য থাকায বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
অনিয়মের মধ্যে রয়েছে সকল শূন্য পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করা, স্বজন প্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া, পূর্বে আবেদনকারীদের সুযোগ না দেওয়া, নির্ধারিত বয়স পেরিয়ে গেছে এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা, সরকারি ছুটির মধ্যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া, বহুল প্রচারিত নয় এমন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গোপন রাখা।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস ছালাম মিঞা এবছরের শুরুর দিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান। তিনি প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ বাদ দিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক, নিরাপত্তা কর্মী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন। বিজ্ঞপ্তির আলোকে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে তিনি সহ ১১ জন, নিরাপত্তা কর্মী পদে ৬ জন, পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে ৪ ও নৈশ প্রহরী পদে ৫ জন আবেদন করেন।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
আব্দুস ছালাম মিঞা সহকারী প্রধান শিক্ষক পদের প্রার্থী হওয়ায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তিনি কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসে ডিজি'র প্রতিনিধি চান। বিধি মোতাবেক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত না হওয়ায় জেলা শিক্ষা অফিস থেকে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি দিতে বলা হয়।
নিয়োগ স্থগিত হলে আব্দুস ছালাম মিঞা আবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি পুনরায় শুধুমাত্র নৈশ প্রহরী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনেক পরে অস্পষ্টভাবে বিদ্যালয়ের ওয়েব-সাইটে দেওয়া হয়। পূর্বে আবেদনকারীরা এতে সুযোগ বঞ্চিত হন। সম্প্রতি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির চাচাতো ভাইয়ের ছেলেকে নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অপরদিকে ঈদ-উল-আযহার ছুটির আগমুহুর্তে তড়িঘড়ি করে পুনরায় প্রধানশিক্ষকের শূন্য পদ বাদ দিয়ে সহকারী প্রধানশিক্ষক, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও নিরাপত্তা কর্মী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি বিদ্যালয়ের ওয়েব-সাইট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এমনকি বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে ঝোলানো হয়নি। এতে পূর্বে আবেদনকারীরাসহ নতুন করে কেউ আবেদন করার সুযোগ পায়নি।

অভিযোগ উঠেছে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও পেশী শক্তির জোরে সহকারী শিক্ষক আব্দুস ছালাম মিঞাকে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সহ পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও নিরাপত্তা কর্মী পদে পূর্ব নির্ধারিত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার পায়তারা করছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে নিরাপত্তা কর্মীর পদটি শূন্য করতে ওই পদে কর্মরত ব্যক্তিকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে স্বেচ্ছায় অবসরে পাঠানো হয়েছে। ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে আবেদন করেছেন এমন একজনকে নিরাপত্তা কর্মী পদে নিয়োগ দেয়ার অপচেষ্টা চলছে। যার নির্ধারিত বয়সসীমা (৩৫ বছর) ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে।
সহকারী প্রধানশিক্ষক পদের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে সহকারী প্রধানশিক্ষক পদে আবেদন করি। কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখে। পরবর্তীতে ঈদ উল আযহার ছুটিতে পুনরায় গোপনে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি গোপন রাখার কারণে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ পাইনি।
বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক শাহিনুর বেগম বলেন, নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ আগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদের প্রার্থী আব্দুস সালাম সাহেব করেছেন।আব্দুস ছালাম মিঞা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, দায়িত্ব হস্তান্তর ও পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ এবং নিয়োগ দানের সত্যতা শিকার করে বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সঠিক নয়।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শওকত আলী খান বলেন, যোগ্য ব্যক্তিরা দুরত্বের কারণে এই বিদ্যালয়ে প্রধানশিক্ষক হয়ে আসতে চান না, তাই প্রধানশিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়নি। নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজন প্রীতি করা হয়নি। সব নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার শামছুল আলম বলেন, বিদ্যালয়ের নিয়োগ সম্পন্ন করতে ডিজির প্রতিনিধি চাওয়া হলে তা দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হচ্ছে মর্মে একব্যক্তি অভিযোগ করেছেন।কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, আভিযোগ খতিয়ে দেখে অনিয়ম পেলে প্রতিনিধি (ডিসির) দেয়া থেকে বিরত থাকব।