
প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ১:১৬

দ্বাদশ নির্বাচনের পর সংকট সমাধান নয় বরং বৃদ্ধি পাবে বলে মন্তব্য করেছেন লেখক-শিল্পী-শিক্ষক ও সাংবাদিকরা। তারা বলেন, দেশকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এই নির্বাচন। নির্বাচনের পর দেশ পরাশক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটা ক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে। সরকারের এবারের নির্বাচন ২০১৪ সালের নির্বাচনী মডেলের সম্প্রসারণ। এটা নির্বাচন নয়, ভোটের খেলা। এই নির্বাচন ঠেকাতে সবাই একসঙ্গে ব্যর্থ হচ্ছে।
শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরের বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে লেখক-শিল্পী-শিক্ষক-সাংবাদিক আয়োজিত ‘ভোট ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সংলাপে এ কথা বলেন বক্তারা।
বক্তরা আরও বলেন, ৭ জানুয়ারির পর সংকট সমাধানের জন্য আমাদের এখন থেকেই রূপরেখা তৈরি করতে হবে। এ সংকট মোকাবিলায় সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, নাগরিকদের মধ্যে ঐক্য তৈরি করা। সে জন্য সবার যার যার জায়গা থেকে কাজ করতে হবে।
সংলাপে উপস্থিত ছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, দৈনিক সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক ও লেখক আবু সাঈদ খান, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, আন্তর্জাতিক বিভাগের অধ্যাপক তানজীম উদ্দীন খানসহ অন্যান্যরা।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, আসন্ন নির্বাচন ২০১৪ সালের সম্প্রসারিত মডেল। ২০১৪ সালে বিরোধী দল ছিল না। এবারও তাই। তবে সম্প্রসারিত রূপ এই অর্থে যে এবার ভোটারদের নির্বাচনে নেয়াতে সরকারি দল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আগেরবার ভোট দিতে গেলে সমস্যা হতো। এবার না গেলে সমস্যা। এসবের অংশ হিসেবে এখন চলছে নাটকের রিহার্সাল। এ ছাড়া সারাক্ষণ ভয়-আতঙ্ক তৈরি করা। এমন আতঙ্ক তৈরি করা যে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কথা বলা যাবে না। এমনকি শিক্ষা নিয়েও কথা বলা যাবে না।
‘সবাই ক্ষমতায় থাকার জন্য অনেক গোয়ার্তুমি করে’ উল্লেখ করে অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, বর্তমান সরকারের মতো এতো নিমর্ম নির্যাতন অতীতে কেউ করেনি। সিপিবিসহ কেউই ভুয়া নির্বাচন ঠেকাতে পারছে না। এবার নির্বাচন হচ্ছে আমি আর ডামির নির্বাচন।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী সংসদ অসাংবিধানিক। এটি একটি গুরুতর সাংবিধানিক সংকট। ফলে এ সরকার কি আর বৈধ থাকে? এ ছাড়া আরও আইনগত সমস্যা রয়েছে। যার জন্য সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে সমাধানের প্রয়োজন।
আমাদের এখানে যেভাবে বিরোধীদের দমন করা হচ্ছে রাশিয়াতেও একই অবস্থা বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক তানজীম উদ্দীন খান। তিনি বলেন, আমাদের দেশও পুতিনের মতো একই দিকে যাচ্ছে। আমাদের এখানেও রাশিয়ার মতোই ডামি-আমির নির্বাচন হচ্ছে। ফলে এখনকার ভোট ও ভবিষ্যতকে আমি দেখি দেশের বাইরে ও আমাদের দুষ্টজোটের ভবিষ্যৎ হিসেবে।
আরও বলেন, আমাদের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে দিল্লিতে। ৭ জানুয়ারির পর দুষ্ট জোটের জন্য আমাদের অস্তিত্বের কী হবে? পুতিনকে দেখেই বোঝা যায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোন দিকে। এটা শুধু ভোটাধিকার নয়, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।
লেখক ও সংগঠক বাকি বিল্লাহর সঞ্চালনায় সংলাপে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খন্দকার আলী আর রাজী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আইনুন নাহার, নারীনেত্রী সীমা দত্ত, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের সহসভাপতি শামসুজ্জামান হীরা, চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ কাইয়ুম, সাংবাদিক সায়দিয়া গুলরুখ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেখক মাহবুব মোর্শেদ, সাংবাদিক এহসান মাহমুদ, শিক্ষা ও শিশু রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক রাখাল রাহা, কণ্ঠশিল্পী অরূপ রাহী, কবি সাখাওয়াত টিপু, রহমান মফিজ, রহমান মুস্তাফিজ, পলিয়ার ওয়াহিদ, হাসান জামিল, বায়েজিদ বোস্তামী, সংগঠক দিলশাদ পারুল, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি নাদিম হাসান, ডাকসুর সাবেক সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আকতার হোসেনসহ আরও অনেকে।