
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৩, ৩:৯

দিনাজপুরের হিলিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বর্জ্য থেকে জৈবসার তৈরির কারখানা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্টের নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বলছে, ইতোমধ্যে ৬৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে কাজ শেষ হলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের কাছ হস্তান্তর করলেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পৌরসভা যৌথভাবে কাজ শুরু করবে।
সোমবার (১৫ মে) সোমবার বিকেলে হঠাৎ করে পানি সরবরাহ ও জৈব সার তৈরির কারখানা পরিদর্শন এবং কাজের বিষয়ে খোঁজ খবর ও পরামর্শ দেন হাকিমপুর হিলি পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী এস এম আবু রায়হান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার হাসিব মোল্লা, প্যানেল মেয়র মিনহাজুল ইসলাম লিটন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলমসহ আরও অনেকে।
এলাকার বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম বলেন, শুনেছি এখানে পানি সরবরাহ ও মানব বর্জ্য থেকে উৎপাদন করা হবে জৈবসার। যা কৃষি ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। যত্রতত্র পড়ে থাকা মানববর্জ্য ও কঠিন বর্জ্য এখানে ব্যবহৃত হবে। এতে এলাকার পরিবেশ দূষণমুক্ত হবে।

হাকিমপুর পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ͑৩২ পৌরসভা’ প্রকল্পের আওতায় হাকিমপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গামাটি নামক এলাকায় এক একর জমির ওপর তৈরি করা হচ্ছে মানব বর্জ্য ও কঠিন বর্জ্য থেকে জৈবসার তৈরীর কারখানা বা ‘ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্ট’। এখানকার উৎপাদিত জৈবসার কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখবে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও হাকিমপুর পৌরসভা যৌথভাবে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্টটি পরিচালনা করবে। ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্টটি তৈরির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গোপালগঞ্জে মেসার্স এম এম এন্টার প্রাইজ। তিনি কাজের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নির্মাণাধীন কাজ হয়েছে প্রায় ৬৫-৭০ শতাংশ বলে জানান তিনি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম এম এন্টার প্রাইজের ম্যানেজার হাসিব মোল্লা বলেন, ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৬৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। এরপর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
হাকিমপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী এস এম আবু রায়হান বলেন, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্টটির প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ৭ কোটি টাকা। হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানব বর্জ্য ও কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে তৈরি হবে জৈবসার।
আবু রায়হান আরও বলেন, ‘ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্ট কারখানায় এলাকার মানব বর্জ্য ও কঠিন বর্জ্য থেকে উৎপাদিত জৈবসার একদিকে যেমন কৃষি ক্ষেত্রে অবদান রাখবে, অন্যদিকে যত্রতত্র পড়ে থাকা ময়লা আবর্জনা থেকে পরিবেশ রক্ষা পাবে।