প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০:২
স্বাধীনতার সূতিকাগারের ঐতিহ্য রক্ষায় ২১ বছর ধরে মুজিবনগর আম্রকানন দেখভাল করছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জহির শেখ। তার পিতা মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ভবেরপাড়া গ্রামের মৃত দাউদ শেখ ছিলেন একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জহির শেখ এতিহ্য ধরে রাখতে জীবনের অর্ধেকরও বেশি সময় ধরে মুজিবনগর আম্রকাননে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যাসহ প্রতিনিয়ত দেখভাল করে আসছেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ২০০১ সাল থেকে মুজিবনগর আম্রকানন দেখভাল শুরু করেন জহির শেখ। তিনি কোন পারিশ্রমিক ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধা পিতার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এই কাজ শুরু করেন। এ পর্যন্ত মুজিবনগর আম্রকাননে লাগিয়েছেন হাজারের অধিক গাছ।
ঐতিহাসিক মুজিবনগরের গৌরবময় ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করছে আম্রকানন। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল মহান মুক্তিযুদ্ধে (তৎকালীন বৈদ্যনাথতলা) বর্তমান মুজিবনগর আম্রকাননে শপথ নিয়েছিলো বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা সরকার। এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের বিজয় ধ্বনি বেজে উঠেছিল মেহেরপুরের মুজিবনগর থেকে। আম্রকাননে কালের সাক্ষ্য বহন করা শতবর্ষী অনেক গাছ পরিচর্যার অভাবে শুকিয়ে মারা যাওয়ার ফলে নিজ উদ্যােগে আম্রকানন পরিচর্যা শুরু করেন জহির শেখ।
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের সামনে আপনমনে আম গাছ পরিচর্যা করছিলেন জহির শেখ। তার সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মকে ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে হলে এই মুজিবনগর আম বাগান প্রয়োজন। এই বাগানে আমাদের প্রথম সরকার গঠন হয় এবং শপথ নেয়। বাগানটি স্বাধীনতার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য বহন করছে। একসময় বাগানে গাছ পরিচর্যার অভাবে মারা গেলে আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে স্বেচ্ছায় কাজ শুরু করি।'
তার এই মহৎ কাজের জন্য স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ও মুজিবনগর উপজেলার বাসিন্দারা তাকে সাধুবাদ জানিয়েছে এবং সরকারের কাছে জহির শেখ'কে একটা কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান করেছে। তবে বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক তাকে একটা কাজের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।