
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২২, ১:২০

পটুয়াখালীর কলাপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ভবন পুন:নির্মান ব্যয়ে অস্বচ্ছতা, ভূ-সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি করে মসজিদের ৩ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা লোপাটের সত্যতা মিললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিশ্চুপ হয়ে থাকায় এ নিয়ে ধর্মপ্রান মুসুল্লীদের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ছে।
কলাপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের এ বিপুল পরিমান অর্থ লোপাটের ঘটনায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম রাকিবুল আহসান, সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ এবং সাবেক ক্যাশিয়ার প্রয়াত আঃ বারেক মীর কে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। মসজিদ কমিটির সাবেক সম্পাদক এসএম রাকিবুল আহসান দাতা হয়ে নিজের নামে, স্ত্রী সুরাইয়া নাসরিনের নামে, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুবুর রহমানের নামে, মাহবুব’র আত্মীয় স্বজন ও ব্যবসায়ী পার্টনারের নামে ২৬টি দলিলে মসজিদের বিপুল পরিমান ভূ-সম্পত্তি নাম মাত্র মূল্যে বিক্রী করেন।
এর আগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুবুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম রাকিবুল আহসান সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মসজিদের ৪ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা লোপাটের লিখিত অভিযোগ করা হয় প্রধানমন্ত্রী, ধর্ম মন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে। এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ওয়াক্ফ পরিদর্শক মোঃ জহিরুল হক শাহীন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। যার এক কপি ওয়াক্ফ প্রশাসক, ঢাকা বরাবর প্রেরন করা হয়েছে। কিন্তু এ প্রতিবেদন দাখিলের দীর্ঘদিন পরও জেলা প্রশাসকের বক্তব্য, প্রতিবেদন তাঁর চোখে পড়েনি। দেখে ব্যবস্থা নেবেন।
এছাড়া বর্তমান মসজিদ পরিচালনা কমিটি মোটা দাগের এ অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহনে রেজুলেশন করে সিদ্ধান্ত নিয়ে মসজিদের প্রায় ১ লক্ষ টাকা খরচ করে নাম মাত্র মূল্যে বিক্রীত ওই সব জমির দলিলের সহিমোহর উত্তোলন করেন। এরপর থেকে সভাপতি, সম্পাদক, সহ-সভাপতি সবাই নিশ্চুপ। কমিটির মেয়াদ শেষ হলেই তারা যেন বাঁচে। যদিও মুসুল্লীদের তারা আশ্বস্ত করে চলছেন আইনী পদক্ষেপ গ্রহন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সূত্র জানায়, কলাপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাত সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাবেক সম্পাদক এসএম রাকিবুল আহসান, সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ, ক্যাশিয়ার মৃত বারেক মীর’র বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ৭৬০ টাকা আত্মসাতের সত্যতা মেলে। এছাড়া মসজিদের ০.৮১ একর জমি ১ কোটি ১০ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রয় করায় অনিয়ম ও অবৈধ কৌশল অবলম্বন করার সত্যতা উঠে আসে তদন্তে।
জেলা ওয়াক্ফ পরিদর্শক মো: জহিরুল হক শাহীন সাংবাদিকদের বলেন, আমি উর্ধ্বতনদের নির্দেশে তদন্ত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছি। পরবর্তী পদক্ষেপ কর্তৃপক্ষ নেবেন। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটি ওয়াক্ফ ভুক্ত করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, সাবেক কমিটি ব্যাংক হিসাবে টাকা পয়সা না রেখে নিয়মবহির্ভূত ভাবে নিজেদের হাতে রেখেছেন। এছাড়া মসজিদের ভবন পুন:নির্মান ব্যয় ও ভূ-সম্পত্তি নিয়ে তাদের অনেক অস্বচ্ছতা রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন বলেন,তদন্ত রিপোর্টটি এখনও আমার চোখে পড়েনি। রিপোর্ট দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
ওয়াক্ফ, ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসক মোঃ সরোয়ার হোসেন বলেন, প্রশাসক মহোদয় ছাড়া আমি পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন সংক্রান্ত বিষয়ে কোন কথা বলতে পারছিনা।
প্রসঙ্গত, ঐতিহ্যবাহী খেপুপাড়া কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদটি নির্মিত হয় ১৯২১ সালে, দ্বিতল ভবন পুন:নির্মান শেষ হয় ২০১২ সালে। এ মসজিদের নামে, খেপুপাড়া মৌজা, ৬ নং জেএল, এসএ খতিয়ান নং ৪০৯, যার দাগ নং ১৭৯, ৬৪০ সহ একাধিক দাগে ২১.৯৬ একর জমির ছাপা রেকর্ড রয়েছে। তাই মসজিদ পরিচালনা কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত হতে সর্বদা মুখিয়ে থাকে প্রভাবশালীরা ।