প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২২, ২৩:৫
মেহেরপুরের গাংনীতে জনির উদ্দীন জগত (৫৭) নামের এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে গাংনী থানা পুলিশ। রবিবার দুপুরে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের হেমায়েতপুর গ্রামের একটি মাঠ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জনির উদ্দীন জগত ষোলটাকা ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের কমেদ আলীর ছেলে।
জনির উদ্দীনের স্ত্রী হালিমা খাতুন বলেন, আমতৈল গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে গাফফার আলী ও তার বোন রেশমা খাতুনের কাছ থেকে প্রায় ২০ শতক জমি ক্রয় করা হয়। ক্রয়কৃত জমি বুঝিয়ে না দিয়ে ঝামেলা করতে থাকে তারা। জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বললে গাফফার আলী হত্যার হুমকিও দেয়। জমির বিরোধে প্রতিপক্ষরা আমার স্বামীকে পিটিয়ে ও গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করেছে।
জনির উদ্দীনের ছেলে লিটন বলেন, আমার বাবা ভোরবেলায় বাড়ি থেকে বের হয়েছে। এরপর তার মরদেহ হেমায়েতপুর মাঠে পাওয়া যায়। চাচাতো ভাই আব্দুর রহমানের ছেলে গাফফারের সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিলো। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারনেই আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, জমিজমা সংক্রান্ত ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো দুটি পরিবারের মধ্যে। গত কয়েক মাস আগেও এই জমি নিয়ে তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছিলো। জনির উদ্দীন জগত এলাকায় কৃষি কাজের পাশপাশি (জমি মাপা) সার্ভেয়ারের কাজও করতো। তার মরদেহ হেমায়েতপুর গ্রামের একটি মাঠের ভুট্টোক্ষেতে পড়ে থাকা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
তবে নিহত জগতের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে গাফফার আলীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, 'এক কৃষকের মরদেহ হেমায়েতপুর মাঠে পড়ে রয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মেহেরপুর মর্গে পাঠানোর প্রস্তুুতি চলছে। তবে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিক অবস্থায় ধারনা করা হচ্ছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ দিলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।'