
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২২, ০:৯

দীর্ঘ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে উন্মুখ হয়ে আছে জেলেরা। শেষ মুহূর্তে চলছে ইলিশ ধরার প্রস্তুতি। নৌকা মেরামত আর জাল বুনায় এখন ব্যস্ত সময় কাটছে জেলেদের। ইলিশ অভয়াশ্রম কর্মসূচির আওতায় রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। গতকাল ২৮ অক্টোবর রাত ১২টার পর থেকে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতি শেষে আবারও নদীতে নামবেন জেলেরা।
আশ্বিন মাসের অমাবস্যা ও ভরা পূর্ণিমায় মা ইলিশ প্রচুর ডিম ছাড়ে। ইলিশের ডিমের পরিপক্কতা ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে এবং আগের গবেষণার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এ বছর মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। ২২ দিন পর ইলিশ শিকারে নদীতে নামবেন রাজবাড়ীর জেলেরা। তাই ইলিশ ধরার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের।
এদিকে এ বছর নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় অধিকাংশ জেলে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকলেও কিছু অসাধু জেলে মাছ শিকারে লিপ্ত ছিল। চলতি বছর মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সফল হয়েছে বলে মনে করছেন মৎস্য বিভাগ। ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।
গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের জেলে হাসেম, ছালাম, ছোবানসহ অনেকেই বলেন, আমরা সরকারের নিষেধাজ্ঞা সব সময় পালন করি। মূলত আমরা বড় নৌকায় গুল্টিজাল বাই। নিষেধাজ্ঞার সময় নদী থেকে জাল ও নৌকা তুলে মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করি। আমাদের এই ২২ দিন পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। সরকার এই বছর ২০ কেজি চাউলের জায়গায় ২৫ কেজি চাল বরাদ্দ দিয়েছে। শুধু কি চাল দিয়েই সংসার চলে, সাথে আরও অনেক কিছু দরকার। এ কারনেই অনেক জেলে নদীতে নেমে পড়ে।

উপজেলা মৎস্য অফিস ও দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়, ২২ দিনের মা ইলিশ শিকারের নিষেধাজ্ঞায় ১০ টি মোবাইল কোর্টে ২৮ জন জেলের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। এবং নিয়মিত ৮টি মামলায় ১৯ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়াও মাছ ধরার ১২টি নৌকা, কারেন্ট জাল ৪০ লাখ মিটার, ইলিশ মাছ ১৯৫ কেজি জব্দ করে উপজেলার কয়েকটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। এবং ৯ জেলেকে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহারিয়ার জামান সাবু বলেন, সবার আগে জেলেদের খাদ্য সহায়তা শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে। গোয়ালন্দে নিবন্ধিতকৃত ১৬২৭ জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। এ বছর মৎস্য বিভাগ থেকে মা ইলিশ রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে। যার সফলতা দেশবাসী পাবে। অন্য বছরের তুলনায় এ বছন নদীতে ইলিশ কম ধরা পড়ছে। তারপরও কিছু বেপরোয়া জেলে নদীতে নেমে মাছ শিকার করে। তবে মৎস্য বিভাগ থেকে কড়াকড়ি অভিযান পরিচালনা করেছে।
দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জেএম সিরাজুল কবির বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর নদীতে জেলেরা কম নেমেছে। নৌ-পুলিশের কঠোর তৎপরতার কারণে অধিকাংশ জেলে মাছ ধরা থেকে বিরত ছিল। এবার পদ্মা নদীতে যে জেলেই মাছ ধরতে নেমেছে, অভিযানে গিয়ে তাদেরকে আটক করে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। অসাধু জেলেদের জেল-জরিমানা করাসহ বিপুল পরিমাণ জাল ও ইলিশ জব্দ করেছে প্রশাসন।