
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২২, ২৩:৩

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে নদী ও সাগরে ইলিশ শিকারে নেমেছেন জেলেরা। শনিবার সকালে বরিশালের বেসরকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পোর্টরোড সহ দক্ষিণাঞ্চলের মাছের আড়তগুলোতে ট্রলার, নৌকা ও স্পিডবোটে করে মাছ নিয়ে আসেন জেলে ও ব্যবসায়ীরা। ফলে কর্মব্যস্ততা বেড়েছে শ্রমিকদের। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় ঝিমিয়ে থাকা পাইকারি বাজারে ইলিশ আসায় বেচাবিক্রিতেও অনেকটাই চাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে। সেই সঙ্গে খুচরা ও পাইকারি ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
নিষেধাজ্ঞার পর প্রথম দিনে ইলিশের দাম নিয়ে কেউ সন্তোষ প্রকাশ করলেও বেশির ভাগ ক্রেতাই জানিয়েছেন ঊর্ধ্বমুখী দরের কথা। সেই সঙ্গে পুরাতন মাছের আমদানি হয়েছে বলেও দাবি তাদের। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় কম ইলিশ আসছে বাজারে। ফলে নিষেধাজ্ঞার আগের যে দাম ছিল ঠিক তেমনি আছে।
বরিশালের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সকাল থেকেই ছোট-বড় নৌকায় পোর্টরোডের মোকামে প্রচুর ইলিশ আসছে। আজ সারাদিনব্যাপী তাদের কর্মব্যস্ততা থাকবে। সাগরে যাওয়া ফিশিং বোটগুলো এখনও ঘাটে আসেনি। সেগুলো ফিরে আসলে ইলিশের আমদানি কয়েকগুণ বেড়ে যাবে বলেও জানান তারা।
পোর্টরোডের মাছের পাইকাররা জানান, ফিশিং বোটগুলো শুক্রবার গভীর রাতে ও শনিবার সকালে সাগরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে ২-১ দিনের মধ্যে সাগরের ইলিশ আসা শুরু করবে। আর তখন বাজারে ইলিশের কাঙ্খিত আমদানি হলে দরও কমে যাবে। শনিবার ভোর পর্যন্ত স্থানীয় নদীতে শিকার করা ইলিশগুলো নিয়ে যারা বাজারে এসেছেন তাদের মতে, প্রথম দিনে স্বল্প সময়ে ইলিশের যে আমদানি বাজারে হয়েছে, তাতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বাড়বে।

জানা গেছে, শনিবার বরিশাল পোর্টরোড বাজারে এলসি সাইজের ইলিশ ৩৬ হাজার টাকা মণ, ১ কেজির ইলিশ ৪০ হাজার, ১২শ গ্রাম ৪৬ হাজার ও দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ৫২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ইলিশ ৭৫০ টাকা, ৮ থেকে ৯শ গ্রাম এক হাজার টাকা, এক কেজি ১১০০ থেকে ১০৫০ টাকা, দেড় কেজি ১২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে পোর্ট রোডের জেনারেল ফিশ মার্চেন্ট অ্যান্ড কমিশন এজেন্ট এক্সপোর্টার ও ইনপোর্টার আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মো. জহির সিকদার বলেন, মাছের দাম কমেনি। নিষেধাজ্ঞার আগে যা ছিল তাই আছে। নদী ও সাগরে ইলিশের পাশাপাশি প্রচুর পাঙ্গাস ধরা পড়ছে। শনিবার প্রায় ২৫০ মণ পাঙ্গাস ধরা পড়েছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে মাছ ভালো পাওয়া যাচ্ছে। জাটকার অভিযান শুরু হলে ইলিশ আরও বেশি পাওয়া যাবে বলেন তিনি।
খুচরা বিক্রেতা মো. অভি খান বলেন, এখনো তেমন ইলিশ বাজারে আসেনি। কাল আরও ইলিশ আসবে। তখন দাম কিছুটা কমতে পারে। সবুর মাঝি নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, নিষেধাজ্ঞায় প্রশাসনের কঠোরতার কারণে কেউ নদীতে নামেনি। তাই বাজারে যে মাছ এসেছে তা গেল রাতের ধরা। আশা করি সামনে আরও ইলিশের আমদানি বাড়বে।
বরিশালের কীর্তনখোলা, আড়িয়াল খাঁ, তেঁতুলিয়া ও কালাবদর নদীতে শিকারে নামা জেলেরা বলছেন, এখন প্রায় শীত পড়তে শুরু করেছে। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষে যে মাছ ধরা পড়ছে তাতে পুরোদমে শীত নামার আগেই বেশ মাছ ধরা পড়বে।
এদিকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আসা পাইকারদেরও উপস্থিতি ছিল বরিশালের পাইকারি বাজারগুলোতে। তাদের ও আড়তদারদের কেনা ইলিশ ককশিটে বরফ দিয়ে সকাল থেকেই প্যাকেটজাত করতে ব্যস্ত ছিলেন শ্রমিকরা।