
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২২, ১:৯

মা ইলিশ রক্ষায় ২২দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে আজ। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের জন্য সমুদ্র ও নদীতে ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। ফলে শেষ দিনে ইলিশ কিনতে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ মৎস্য কেন্দ্রে ভিড় জমান ক্রেতারা। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় দাম চড়া হওয়ায় হতাশ ক্রেতারা।
পাইকারী বিক্রেতারা জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় দখিনের বিভিন্ন মোকাম থেকে সরাসরি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সহজেই পাঠানো যাচ্ছে ইলিশ। ফলে বরিশাল মোকামে মাছের আমদানী কম, এজন্য দামও বেশি। এদিকে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে সরকারিভাবে জেলেদের সহায়তা করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে বরিশালের বৃহৎ মৎস্য পাইকারী বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় শুরু হয়। ফজরের নামাজ শেষে মুহূর্তের মধ্যে ক্রেতা-বিক্রেতার হাক ডাকে সরগরম হয়ে ওঠে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম এ মৎস্য আড়ৎ। অন্যান্য সময়ের তুলনায় খুচরা ক্রেতাদের যেমন ভিড় ছিল, তেমনি মাছের দামও ছিল অনেক বেশি। অন্যান্য দিনের তুলনায় প্রতি কেজি মাছ ১শ’ থেকে ৩শ’ টাকা বেশি দরে বিক্রি হয়েছে। এক কেজি সাইজের ইলিশ প্রতি কেজি ১২শ থেকে ১৩০০ টাকা, ১২শ থেকে ১৫শ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি বিক্রি হয়েছে ১৫ থেকে ১৬শ’ টাকা, ৮শ থেকে ৯শ’ গ্রামের ১১শ টাকা, ৫শ থেকে ৬শ’-৭শ’ গ্রাম ওজনের মাছ বিক্রি হয়েছে ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা কেজিতে। আর ২শ থেকে ৩শ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৪শ থেকে ৫শ’ টাকা কেজি।
বরিশাল পাইকারি মৎস্য বাজারে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতা সানু মৃধা জানান, প্রতি বছর নিষেধাজ্ঞার আগের দিন বরিশালে প্রচুর ইলিশ মাছ আসে এবং দামও কম থাকে। তবে এবছর সে তুলনায় ইলিশ আসেনি। ক্রেতাদের তুলনায় মাছ কম হওয়ায় দামও বেশ চড়া। সাবিহা নামের এক গৃহবধূ জানান, নিষেধাজ্ঞার পূর্বে দাম কম হবে ভেবে এসেছিলাম। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় কিনতে পারছি না।
এদিকে সাগরে কাঙ্খিত ইলিশ মাছ না পাওয়া এবং ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় মাছের পরিমাণ কম হওয়ায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে দাবি ট্রলার মালিকদের। আব্দুর রহিম নামের এক ট্রলার মালিক বলেন, এবার তেমন মাছও পাইনি। যা পেয়েছি তা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বেশি দামে বিক্রির পরেও ঠিকঠাক খরচ উঠবে কিনা বলা যাচ্ছে না।

পাইকারি মাছ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বরিশাল মোকামে ইলিশ নেই বললেই চলে। যাও এসেছে যে দাম দিয়ে কিনলাম তাতে খুচরো ক্রেতাদের কাছে বিক্রি খুব কষ্ট হবে।
মৎস্য আড়ৎদার সমিতির এক নেতা বলেন, শেষ সময়ে সবাই চাচ্ছে মাছ কিনতে, তাই দাম বেশি। জেলে ও ব্যবসায়ীরাও চাচ্ছে তাদের মাছ বিক্রি করে চলে যেতে। তবে কেউ কেউ আরও বেশি দামে বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছে। তবে রাতের আগেই সব বিক্রি হয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি।
বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিমল দাস বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় ৬ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে থেকে ২২ অক্টোবর মধ্য রাত পর্যন্ত সমুদ্র ও নদীতে ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ইলিশ আহড়ন কেন্দ্র এলাকাগুলোতে আমরা প্রচার প্রচারণা চালিয়েছি। সেই সঙ্গে অবরোধ কার্যকর করতে দিন-রাত সব সময় আমাদের টহল জোরদার থাকবে। এ সময়ে জেলেদেরকে সরকারি সহায়তাও দেওয়া হবে।