রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৫ নং ওয়ার্ড সোহরাব মন্ডল পাড়ার এলাকার মিষ্টির কারিগর সুজন নামের একজন যুবক অপচিকিৎসায় ভুগছেন। তিনি বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রোজার আগে বাম পায়ের ফোঁড়ার জন্য দৌলতদিয়া সিনেমা হল সংলগ্ন স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মোঃ সাইফুল ইসলাম ব্যাথানাশক ঔষধ দেন। কিন্তু ফোঁড়ার ব্যথা না কমলে পরবর্তীতে তিনি ফোঁড়া পাকানোর ঔষধ প্রদান করেন। তাতেও তিনি সুস্থ না হলে ডাঃ সাইফুল ইসলাম তাকে ফরিদপুর জনতা ক্লিনিকে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ভুক্তভোগী ফরিদপুর উজ্জল ক্লিনিকে ফোঁড়ার অপারেশন করালে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে তিনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়।
ভুক্তভোগীর শ্বশুর মোহাম্মদ বেপারী জানান, আমার মেয়ে জামাইয়ের ফোঁড়ার ব্যথার জন্য জন্য সাইফুল ডাক্তার ঔষধ দেয় কিন্তু তাতে ব্যথা না কমলে পরে ফোঁড়া পাকার ঔষধ দেয়ার পরে ফোঁড়া ফেটে আরও খারাপ অবস্থা হয়। তখন সাইফুল ডাক্তার ফরিদপুরে নিয়ে যেতে বলে। ফরিদপুরে ভুল অপারেশন করলে তাকে ঢাকা হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। এখন আমার মেয়ে জামাই ঢাকা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
ভুক্তভোগীর সালিকা রুমা বেগম বলেন, আমার বোন জামাইয়ের ফোঁড়া হলে আমি প্রথমে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক সাইফুল ডাক্তারের কাছ থেকে ব্যথার ঔষধ এনে খাওয়ায় কিন্তু ব্যথা না কমলে পরে ফোঁড়া পাকার ঔষধ দেয় সাইফুল ডাক্তার। পরে ফোঁড়া ফেটে অবস্থা খারাপ হলে সাইফুল ডাক্তার এসে তাকে দ্রুত ফরিদপুর জনতা ক্লিনিকে নিতে বলেন। কিন্তু আমার দুলাভাই তার পরিচিত উজ্জ্বল ক্লিনিকে গিয়ে ভুল চিকিৎসা নিয়ে এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী নাছিমা বেগম জানান, গোয়ালন্দ ও ফরিদপুর ভুল চিকিৎসার কারণে তার স্বামী এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। এখনো তিনি অসুস্থ। চিকিৎসক বলেছে সুস্থ হতে কিছুদিন সময় লাগবে। তিনি আরও জানান, তারা গরিব ও অসহায় মানুষ। তার স্বামীর হোটেলের কাজের উপরে তাদের সংসার চলে। দীর্ঘ এক মাস কাজ বন্ধ থাকায় তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তার স্বামীর চিকিৎসার টাকা পাঠানোর বিকাশ নাম্বার (০১৭৪৫-২০৫০৪৪) বিকাশ পার্সোনাল নাম্বার।
এ ব্যাপারে পল্লী চিকিৎসক ডাঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, সুজনের বাম পায়ের ফোঁড়ার চিকিৎসার জন্য আমি ব্যথানাশক ও গ্যাসের ঔষধ দেই। তাতেও তার কাজ না হলে আমি তাকে ফরিদপুর জনতা ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেই কিন্তু তিনি সেখানে চিকিৎসা না নিয়ে অন্য কোথাও চিকিৎসা নিয়েছে। শুনেছি তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।