
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২২, ২১:২৫

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ড জিরো পয়েন্টে ভারত বাংলাদেশের মানুষের পদচারণায় দুুই বাংলার মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে। সীমান্তের দুই পারে ভিড় করতিছেন শত শত মানুষ। তাদের কেউ কেউ আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। কিন্তু সীমান্তে বেড়া থাকায় সরাসরি কথা না বলতে না পারলেও দূর থেকে স্বজনদের দেখে শান্তি খুঁজে পেয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) হিলি সীমান্তের জিরো পয়েন্টে শেষ বিকেলে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা মানুষের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো সীমান্তের জিরো পয়েন্টে যেন দুই বাংলার মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে। দুই সীমান্তে কাঁটা তাড়ের বেড়া দিয়ে আলাদা করা থাকলেও তাদের মনের ভালোবাসার কোন কমতি ছিলো না। স্বজনদের সাথে পূজার উৎসব উৎযাপন করতে না পারলেও সরাসরি কথা বলা বা অদূর থেকে ইশারায় কথা বলতে পাড়ায় তারা তৃপ্তি মনে করছেন। শারদীয় দুর্গাপূজার শুরু থেকেই প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে হিলি সীমান্তের শূন্যরেখায় জড়ো হতে থাকেন দর্শনার্থীরা। এ যেন এক অন্যরকম দৃশ্য। জড়ো হওয়া দর্শনার্থীরা সীমান্ত ঘেঁষে রেল লাইনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন। স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি কেউ বা ইশারায় কথা বলছেন। বড়দের সঙ্গে ছোটরাও এসেছিল ওখানে।
জানা গেছে, দুর্গাপূজার শুরু থেকেই সীমান্তের চেকপোস্ট গেট এলাকায় ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। ধারণা করা হচ্ছে দশমীর দিনেও ভিড় বাড়বে এখানে । শুধু পূজা বা ঈদের দিন নয় শুক্রবার ছুটির দিনেও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, অটোরিক্সা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে সীমান্তের চেকপোস্টে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন দর্শনার্থীরা।
শারদীয় দুর্গাপূজার মহা নবমীর দিন শেষ বিকেলে কথা হয় বগুড়া থেকে আসা চন্দন কর্মকার এর সাথে তিনি বলেন, আমার বাবারা সাত ভাই। বাবা বাংলাদেশে থাকেন। বাকি চাচারা ভারতে। গত কয়েক মাস তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা হয়নি। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়। আজকে সরাসরি কথা বলতে না পারলেও দূর থেকে এক নজর দেখে খুব খুশি হয়েছি।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

কয়েকজন দশনার্থী বলেন, ছেলে মেয়েদের হিলি সীমান্ত এলাকা দেখাতে নিয়ে এসেছি। এতোদিন শুনেই এসেছি আজ কাছ থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখলাম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। খুব ভালো লাগলো এখানে এসে। দুর্গাপূজার বিসর্জন দিনে বেলা সাড়ে বারোটার দিকে পার্শ্ববর্তী উপজেলা পাঁচবিবি থেকে আসা রিপন শাহা বলেন, পরিবারের সবাই ভারতে থাকেন। তাই পূজার শেষ দিনে হলেও ছোট কাকাকে দেখতে এসেছি। কাছে গিয়ে কথা বলতে পারলাম না। দূর থেকে হলেও দেখে ভালো লাগলো।
এদিকে হিলি ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদিউজ্জামান জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারত থেকে অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বী যাত্রী বাংলাদেশে পূজা দেখতে আসছে। আবার অনেকের আত্মীয়ের বাড়ি রয়েছে বাংলাদেশে। সে কারণেও তারা বাংলাদেশে পূজা করতে আসছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকেও অনেক যাত্রী ভারতে পূজা দেখতে এবং তাদের আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছে। এ কারণে শারদীয় দুর্গাপূজার শুরু থেকেই হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে।