নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে শিক্ষককে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের দুই শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। কর্মচারীর বিচারের দাবীতে মানববন্ধন করে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
আজ রবিবার (২৯ মে) দুপুরে নোবিপ্রবি প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরনের বিচারের দাবীতে আন্দোলন করে বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এমআইএস নেটের সভাপতি মুহিত সরকার বলেন, আমাদের শিক্ষকের সাথে বিভাগে কর্মরত একজন কর্মচারী অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। আমরা দ্রুত এর সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট। অন্যথায় আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করব।
ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আল আমিন শিকদার বিভাগের নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনেন। আল আমিন শিকদার বলেন, বিভাগের একাডেমিক প্রয়োজনে মুঠোফোনে কল দিলে মিজানুর রহমান আমার সঙ্গে দূর্ব্যবহার করে। পরে বিভাগে চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে এসব বিষয়ে কথা বলা হবে বলে ফোন কেটে দিলে মিজানুর রহমান আবার কল দিয়ে গালাগালি শুরু করে এবং চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করে ও দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। পরে তিনি ফোন কেটে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুরকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা
আরও
দৌলতদিয়ায় অভিযোগের পর মাঠে প্রশাসন, জব্দ বালু কাটার যন্ত্র
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটর মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ফোনে শিক্ষক উল্টা আমাকে আমি কিভাবে এখানে চাকরি করি তা দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এর আগে তিনি আমাকে এক স্টাফের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছেন তিনি আগেরদিন কেন আসে নাই। পরে আমি ওই স্টাফ সেদিন আসছেন জানালে তিনি বলেন আমি মিথ্যা বলছি। আমি স্যারকে বলেছি, যে আপনি সবসময় আমার বিরুদ্ধে লেগে থাকেন, আমি কি করেছি, আমি অফিসে আসতেছি স্যার।
অভিযোগকারী শিক্ষক আল আমিন শিকদারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই কর্মচারী বিভিন্ন সময়ই শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে থাকেন। তবে এসব বিষয়ে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটর মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আমি এমন কোন খারাপ আচরন করেছি প্রমাণ করতে পারলে কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে যা ব্যবস্থা নিবে তাই মেনে নিব।
এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করা হবে জানিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত রাখতে বলেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর। এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জানানো হয়, তদন্ত কমিটি করে ঘটনার সত্যতা ক্ষতিয়ে দেখা হবে এবং অপরাধ অনুযায়ী ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করা হবে৷