
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২২, ০:৩১

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক ঘোষিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের সব অনিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ কার্যকরের শেষ দিন (রোববার) দেবীদ্বারে বিশেষ অভিযানে একটি পাইভেট হাসপাতালকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাসহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে দেবীদ্বার উপজেলা সদরের চান্দিনা সড়কের মাথায় অবস্থিত অনিবন্ধিত ‘আল মদীনা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ট্রমা সেন্টার’কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশ অমান্য করে কার্যক্রম পরিচালনা করার অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালত ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং বৈধ কাগজপত্র তৈরী না করা পর্যন্ত হাসপাতালটির সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা প্রাইভেট হাসপাতাল এবং ডায়োগনেস্টিক সেন্টার পরিদর্শন টিম।
গত বৃহস্পতিবার থেকে জেলা সিভিল সার্জনের নির্দেশে দেবীদ্বার উপজেলার ১৬টি প্রাইিভেট হাসপাতাল এবং ১৭টি ডায়োগনেষ্টিক সেন্টার (মোট ৩৩টি হাসপাতাল- ডায়োগনেষ্টিক সেন্টার) তদারকীতে গঠিত ৩ সদস্যের উপজেলা প্রাইভেট হাসপাতাল এবং ডায়োগনেস্টিক সেন্টার পরিদর্শন টিম রোববার সকাল পর্যন্ত ১৭টি হাসপাতাল ডায়োগনেষ্টিক সেন্টার পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে ‘আল মদীনা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ট্রমা সেন্টার’ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বৈধ কোন কাগজ পত্র তৈরী না করেই কার্য়ক্রম অব্যাহত রাখায় হাসপাতালটি বন্ধ ও জরিমানা করা হয়।

বিশেষ অভিযান চলাকালে ভ্রাম্যমান আদালতের নেতৃত্বে ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আশিক-উন-নবী তালুকদার। এসময় উপজেলা প্রাইভেট হাসপাতাল এবং ডায়োগনেস্টিক সেন্টার পরিদর্শন টিমের নেতৃত্বে ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ এনামুল হক এবং পরিদর্শন তদন্ত কমিটির ৩ সদস্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসাল্টেন্ট অর্থপেডিক ডাঃ সফিউল উমাম, মেডিকেল অফিসার ডাঃ শরিফুল ইসলাম শাকিল, ল্যাব টেকনোলজিস্ট অলিউল্লাহ। আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সেনিটারী ইনিস্পেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুন্নাহার, দেবীদ্বার থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এ,এস,আই) মোঃ মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ।
দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ এনামুল হক বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবিরের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বেঁধে দেয়া ৭২ ঘন্টা সময় সীমার মধ্যে যেসব ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর লাইসেন্স নেই, তিন দিনের মধ্যে সেগুলো বন্ধ করা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়াও অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার কাজে এবং অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) অনিবন্ধিত চিকিৎসক রাখা হলে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রসহ জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের পরিদর্শন টিম ৩৩ টি হাসপাতাল ও ডায়গনেষ্টিক সেন্টারের মধ্যে ১৭টি পরিদর্শন করেছেন। বাকীগুলো পর্যবেক্ষণ শেষে নিবন্ধনহীন হাসপাতাল ও ডায়গনেষ্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।