
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২২, ১৮:৫

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় শাপলা বানু (২৩) নামে অন্তঃস্বত্তা নারীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর স্বজনদের বিরুদ্ধে। এতে ওই নারীর গর্ভের পাঁচ মাসের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। এখন তিনি নওগাঁ সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। শাপলা বানু নওগাঁ সদর উপজেলা বলিহার ইউনিয়নের কুরমইল গ্রামের আব্দুস সাত্তার এর মেয়ে। তার স্বামী বায়েজিদ চৌধুরী (২৭) এর বাড়ি মহাদেবপুর উপজেলার শরিফপুর গ্রামে। তার বাবার নাম খইবর চৌধুরী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাপলা বানু ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং বায়েজিদ চৌধুরী রডের মিস্ত্রী। ২০১৬ সাল থেকে তাদের মধ্যে ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ সম্পর্ক থেকে ২০২০ সালে তারা গোপনে বিয়ে করে। মেয়ের পরিবার বিয়ের বিষয়টি জানলেও ছেলের পরিবার বিষয়টি জানতো না। বিয়ের পর থেকে শাপলা তার বাড়িতে থাকেতন। সেখানে বায়েজিদ চৌধুরী খরচ বহন করতেন। গত তিন মাস থেকে শাপলার সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেয় এবং খরচও বন্ধ করে দেয় বায়েজিদ। এরমধ্যে বায়েজিদ এর এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করে শাপলা। তার কাছ থেকে জানতে পারে কয়েকদিন আগে খঞ্জনপুরে বায়েজিদ দ্বিতীয় বিয়ে করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য গত শুক্রবার (৮ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে শাপলা তার স্বামী এর বায়েজিদ বাড়িতে যান। সেখানে গেলে শাপলা যে বায়েজিদ এর স্ত্রী তা সবাইকে অবগত করে। বিষয়টি অস্বীকার করে ক্ষিপ্ত হয়ে বায়েজিদ এর চাচাতো ভাই নাজমুল চৌধূরী ও চাচা কুদ্দুস চৌধূরী গৃহবধুকে নির্যাতন করা সহ পেটে লাথি মারে। এতে গুরুত্বর আহত হন শাপলা। পরে সংবাদ পেয়ে শাপলাকে তার চাচাতো ভাই নুরুল ইসলাম উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে এসে। অবস্থা বেশি খারাপের দিকে গেলে রোববার (১০ এপ্রিল) নওগাঁ সদর হাসপাতালে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে বলে ডাক্তার নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ওই গৃহবধূ।
ভুক্তভোগী গৃহবধু শাপলা বানু বলেন, গত এক বছর আগে আমার গোপনে বিয়ে করে বাবার বাড়িতে থাকতাম। কিন্তু স্বামীর পরিবার জানতো না। স্বামী বায়েজিদ চৌধুরী নিয়মিত খরচ বহন করতো। তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে বিভিন্ন তালবাহানা করতো। গত তিনমাস থেকে সে যোগাযোগ কমিয়ে দেয়। এমনকি ঠিকমতো খরচও দিতো না। তার এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে বিয়ে করেছে বলে জানায়।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
বিষয়টি জানার জন্য স্বামীর বাড়িতে গিয়েছিলাম স্বামীর অধিকার নিতে। কিন্তু উল্টো আমাকে স্বামীর চাচাতো ভাই নাজমুল চৌধূরী ও চাচা কুদ্দুস চৌধূরী নির্যাতন করে নির্যাতন করে পেটে লাথি মারে। এতে অসুস্থ পড়লে আমাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নেওয়া হয়। অবস্থা বেশি গুরুত্বর হওয়ায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। আমার গর্ভে থাকা পাঁচ মাসের সন্তানও নষ্ট হয়েছে। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার ও স্ত্রীর স্বীকৃতি চাই।
গৃহবধু শাপলা বানুর মা জাহেরা বিবি বলেন, আমরা গরীব মানুষ। স্বামী দীর্ঘদিন থেকে হার্টের রোগী ও লিভার জনিত সমস্যায় ভুগছে। চার ছেলেমেয়ের মধ্যে মেয়ে শাপলা বানু তৃতীয়। মেয়ে ভালবেসে বিয়ে করেছিল। এখন দেখছি মরতে বসেছে। মেয়েকে নির্যাতনের বিচার চাই। সেই সঙ্গে তার স্বামীর স্বীকৃতি দেওয়ার দাবী জানান তিনি।

বায়েজিদ চৌধুরীর বাবা খইবর চৌধুরীর বলেন, গত এক বছর আগে ছেলে বিয়ে করেছে এ কথা আমি জানতাম না। তবে কিছুদিন আগে আমার ছেলেকে বিয়ে দিয়েছি। গত ৪/৫ দিন আগে ওই মেয়ে (শাপলা) আমার বাড়ি এসে বলে যে আমার ছেলে তাকে বিয়ে করেছে। সেদিন আমার ছেলে বাড়ি ছিলনা। এছাড়া তাকে কোন ধরণের মারপিট করা হয়নি বলে অভিযোগ অস্বীকার করেন।এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বায়েজিদ চৌধুরী ও নাজমুল চৌধূরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা বন্ধ পাওয়া যায়।
নওগাঁ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জাহিদ নজরুল চৌধূরী বলেন, শাপলা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। এখনও তার রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আঘাতের কারণে গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে।
নওহাটা ফাঁড়ির দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউর রহমান বলেন, ওই নারীকে (শাপলা বানু) স্ত্রী হিসেবে ছেলেপক্ষের কেউ মেনে নিতো না। ছেলে পরিবার বিভিন্ন ভাবে তালবাহনা করতো। মাঝে মধ্যে মেয়েটি ছেলের বাড়িতে যেতো। হঠাৎ করে মেয়ে জানতে পারে তার স্বামী নতুন করে আরেকটি বিয়ে করেছে।
বিয়ের পর তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ফাঁড়িতে অভিযোগ দেয়। এরপর ঘটনাস্থলে তদন্তে যাওয়া হয়। মেয়েকে নির্যাতন করা হয়েছে শুনেছি। নির্যাতনে তার গর্ভের বাচ্চাটি নষ্ট হয়ে গেছে। পরবর্তিতে সে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তবে নির্যাতনে বাচ্চা নষ্টের বিষয়টি অভিযোগপত্রে উল্লেখ ছিলনা। হাসপাতালে গিয়ে দেখে আসা হয়েছে বিষয়টি গুরুত্বর। আমরা চেষ্টা করেছি অভিযোগটি এজাহার আকারে নিতে।