জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিয়ে বিভাজন সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জুলাই কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একার অর্জন নয়; ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ আন্দোলন, গুম, খুন, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতার ফলেই এই গণ-অভ্যুত্থান সফল হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার থেকে মুক্তির পর যদি ‘জুলাই কার’—এ বিতর্কে জড়িয়ে পড়া হয়, তাহলে জুলাই কারও থাকবে না। তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক জাতি শত বছর সংগ্রাম করেও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি, আবার কোথাও অল্প কয়েকটি দিনেই ইতিহাস বদলে গেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানও তেমন একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন। তাই এ অর্জনকে দলীয়করণ না করে এর মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা গুম, হত্যা, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মীর কাসেম আলী তাকে দেশে না ফিরলে তার ছেলেকে ধরে নেওয়ার আশঙ্কার কথা বলেছিলেন। পরে তিনি নিজেও গ্রেপ্তার হন এবং তার ছেলেকেও আটক করা হয়। এসব ঘটনাকে তিনি স্বৈরাচারী শাসনের জ্বলন্ত ইতিহাস হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস বুঝতে হলে শুধু জুলাইয়ের ৩৬ দিন নয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আন্দোলনের ধারাবাহিকতাও বিবেচনায় নিতে হবে। বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং অসংখ্য পরিবার এ সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনাও উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংসদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনী গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। গুম প্রতিরোধে পৃথক আইন প্রণয়ন, মানবতাবিরোধী অপরাধে কঠোর শাস্তি, জুলাইয়ে আহতদের ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী ক, খ ও গ শ্রেণিতে সহায়তা এবং তালিকাভুক্ত না হওয়া ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানান তিনি।