
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৭:৬

মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের হাড়াভাঙ্গা গ্রামের মাদ্রাসা পাড়াতে কীটনাশক ব্যাবসায়ী আবু সাঈদের বাড়িতে জমি জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দিবালোকে অস্ত্রসহ অতর্কিত হামলা চালিয়েছে একই গ্রামের আসাদুজ্জামানের ছেলে সাব্বির আহমেদ। গতকাল (২১শে ফেব্রুয়ারী) দুপুর ১২ ঘটিকার সময় এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানান আবু সাঈদ।
ব্যাবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, 'আসাদুজ্জামান আমার সহোদর ভাই। পারিবারিক জমি জায়গা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছোট বড় সমস্যা হয়ে আসছিলো। তারা বামন্দীতে বসবাস করে বর্তমানে। কিন্তু গ্রামের বাড়িতে আমার জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে আমার আরেক ভাই রোকনুজ্জামানের মাধ্যমে।
গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে বেশ কয়েকবার বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিবাদ চালিয়ে যায় আসাদুজ্জামান। পরবর্তীতে আমি আইনের আশ্রয় নিয়ে মামলা করি। মামলার ফলাফল না হতেই আবারো আমার বাড়িতে হামলাসহ নানান ভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকে আসাদুজ্জামান এবং তার ছেলে সাব্বির আহমেদ।'
তিনি আরো বলেন, 'গতকাল (২১শে ফেব্রুয়ারীর) দিন দুপুরে আমার বাড়িতে আসাদুজ্জামানের ছেলে সাব্বির আহমেদ কিছু ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে এসে হামলার চেষ্টা করে। আমার ছেলে আকাশকে পিস্তল বের করে খুন করার হুমকি দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমার স্ত্রী এবং কন্যাকেও তারা শারীরিক ভাবে আঘাত করে। তখন আমি আমার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলাম।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি


আমার বাড়িতে থেকে ফোন দিয়ে জানায় বাড়িঘর ভাংচুর করছে বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে এসে। আমি বাড়িতে পৌঁছালে আমার উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে মারতে আসে সাব্বির আহমেদ। স্থানীয় মানুষজন আমাদের রক্ষা করে এবং তাদের এসব করতে নিষেধ করলে তারা তাদের উপরেও ক্ষিপ্ত হয় এবং গালিগালাজ করতে করতে আমার বাড়ির বাইরে গিয়ে পাশবর্তী আসাদুজ্জামানের বাড়ির ছাঁদে উঠে ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারে। ইটের আঘাতে আমার ছেলে আকাশের পা জখম হয়ে যায়। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চায়।'
হাড়াভাঙ্গা মাদ্রাসা পাড়ার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জানান, আসাদুজ্জামানের ছেলে সাব্বির উশৃংখল একটা ছেলে। কয়েকবছর আগে মধ্যে রাতে এলাকায় আপত্তিকর ঘটনা ঘটানোর অপরাধে সাব্বির সহ তার কয়েকজন উশৃংখল বন্ধুর মুচলেকা নেওয়া হয়েছিলো।
এ বিষয়ে কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ড (হাড়াভাঙ্গা গ্রামের) মেম্বার আলিউল আজিম শাহীন জানান, 'তাদের পারিবারিক সম্পত্তী নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ বেশ কয়েকবার গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে নিরসনের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। তবে, গতকালের অস্ত্রসহ অতর্কিত হামলার বিষয়ে আমি অবগত না এবং আমাকে কেউ লিখিত অভিযোগও দেয়নি।গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যাবস্হা নেওয়া হবে।