
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২:১৫

কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুরে মুজিব কেল্লা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিষ্ণুপুর মুজিব কেল্লার নির্মাণ কাজে এমন নিন্মমানের ইট, খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ জনসাধারণ।
সরেজমিন সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের গলঘেশিয়া নদীর চরে নির্মানাধীন মুজিব কেল্লা'র নির্মাণকাজ শুরু হয় গত ২৩ মে ২০২১ সাল থেকে। অভিযোগ উঠেছে নিন্মমানের ইট, খোয়া দিয়ে ছাদ ঢালাই সহ বিভিন্ন নির্মাণকাজ করছেন নাজমুল ইসলামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২ কোটি ৮০ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা ব্যায়ে মুজিব কেল্লা নির্মাণ করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী ও ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান সরদার, সিরাজুল ইসলাম সহ অনেকে নিম্ন মানের কাজের প্রতিবাদ করেও কোনো সুরহা না পেয়ে মঙ্গলবার (১৫ ই ফেব্রুয়ারী) বেলা ১২টার সময় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দায়ের করেছে।
এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন খাঁন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন কাজের তদারকী করছি নিয়মিত, কিছু ইট নিন্মমানের এসেছে, আমি সেগুলো পরিবর্তনের জন্যে বলে দিয়েছি ঠিকাদারকে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা থেকে মানুষের জানমাল রক্ষায় মাটির উঁচু ঢিবি তৈরি করা হয়। সে সময় এগুলো মুজিব কেল্লা নামে পরিচিতি পায়। পরবর্তী সময়ে এসব মুজিব কেল্লা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয় শেখ হাসিনা সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে বিদ্যমান মুজিব কেল্লা গুলো সংস্কার ও নতুন কেল্লা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়।
মুজিব কেল্লা মূলত মাটির উঁচু ঢিবি। বিশাল এলাকায় মাটি ও বালু ফেলে এ কেল্লা নির্মাণ করা হয়। যেন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় স্থানীয় মানুষ এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে পারেন। পাশাপাশি থাকছে গবাদি পশু রাখার জন্য আলাদা স্থানও।
এমনভাবে এসব কেল্লা নির্মাণ ও সংস্কার করা হচ্ছে যেন, অন্যান্য স্বাভাবিক সময়ে সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্রের সামনের খোলা অংশকে খেলার মাঠ বা হাটবাজার হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।