
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩০

রাশিয়ার পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশকে সাময়িক ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা দেশের জ্বালানি খাতে স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের মেয়াদ আগামী ৯ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ অনিশ্চয়তার মধ্যে এই ছাড় বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। এর ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাশিয়া থেকে ডিজেলসহ অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
এর আগে মার্চ মাসে স্বল্পমেয়াদি একটি ছাড় দিলেও তা কার্যত বাংলাদেশ কোনো সুবিধা পায়নি। কারণ সেই সময় রাশিয়ার কোনো জ্বালানি বহনকারী জাহাজ দেশের পথে ছিল না। ফলে নতুন করে জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়নি।
বর্তমান সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা দূর হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন বাংলাদেশ চাইলে নতুন করে চুক্তি করে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি করতে পারবে, যা সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাও বড় ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এ অবস্থায় বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে এক লাখ টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় একটি মার্কিন কোম্পানির মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ মেনে চলা যায়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্রয় ও পরিবহন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমদানি নিশ্চিত করতে পারলে বাজারে সম্ভাব্য জ্বালানি ঘাটতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ছাড় সাময়িক হলেও তা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে বহুমুখী উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার বিকল্প নেই।