
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২১, ২১:৩৭

"এহন আর আগের মতোন আমগোর কাছে কেউ জিনিস কিনবার চায় না।"গেরামে গেরামে,আস্তার মোড়ে মোড়ে দহান ঘর অইছে।তার জন্যই আমাগোর এহন পথে বহার মতোন অবস্থা" কথাগুলো বিলাপ করে বলছিলেন চাপাইনবাগঞ্জ থেকে আসা সুমন (২৮)। গত ৭-৮ বছর ধরে ভূঞাপুরের বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ফেরিওয়ালা সুমন বাঁশি,ফিতা, ছোটদের খেলনা, পাতিল, চামচসহ নানা রকম প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করে আসছে।
দিন বদলে গেছে।প্রত্যন্ত অঞ্চল এখন আর আগের মতো নেই। উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।যার ফলে মানুষ এখন বাজার বা শহরে গিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করছে। বর্তমানে এ সকল ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে মানুষ জিনিসপত্র কিনতে চায় না। আধুনিকায়নের ফলে বিভিন্ন বাজারে বাজারে গিয়ে মানুষ এসব জিনিস ক্রয় করে। যার ফলে তারা এখন আর গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ানো ফেরিওলাদের কাছ থেকে খুব বেশি জিনিসপত্র কিনতে চায় না।
একটা সময় হরেক রকম জিনিস নিয়ে ফেরিওলাদের ডাকাডাকিতে মুখর হয়ে যেত গ্রাম।কাক ডাকা ভোর হতে না হতেই তাদের আনাগোনা দেখা যেত। কাউকে কাউকে নানা ঢংয়ের নানা সঙের পোষাকেও দেখা যেত।কিন্তু এখন তাদের এই ব্যবসা চলে না বলে পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছে অনেকেই।
শুধু সুমন নন। তার মতো করে একসময় মজিদ, নুরুল ইসলাম ফেরিওয়ালা ছিলেন। সারাদিন বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে তারা ফেরি করে বেড়ান পরিবারের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দেয়ার স্বপ্ন। কেউ চুড়ি, লেজ ফিতা, কানের দুল, নাকের ফুল, প্লাস্টিকের জিনিস, কেউ বা চানাচুর, বাদাম বিক্রি করেন। তবে কালক্রমে কমে আসছে ফেরিওয়ালাদের সংখ্যা। যান্ত্রিকতার জীবনে অনেকে এই পেশা বদল করে ঝুঁকছেন ভিন্ন পেশায়। কেউ রিকশা চালান আবার কেউ দিন মজুরি করছেন।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি


সুমন (২৮) জানান,চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে বউ পোলাপান রাইখা ৭-৮ বছর ধইরা ভূঞাপুরের বিভিন্ন গেরামে গেরামে ঘুইরা ঘুইরা এগুলো বেঁচি।এহন মানুষ আমগোর কাছ থিকা এন্না নিতে চায় না। তাই ভাবছি অন্য কিছু করমু।যা উপার্জন হয় তাতে সংসার চলে না। এতো দূর থেইকা এহানে আসছি কিন্তু কোনো উন্নতি করতে পারি নাই। এহন আর মানুষের কাছে আমাগোর কদর নাই। তাই আমরা বাধ্য হইতেছি অন্য পেশায় চইলা যাইতে।
নুরুল ইসলাম জানান, আমি এক সময় গ্রামগঞ্জে ফেরি করে নিত্যপণ্যের জিনিসপত্র বিক্রি করতাম। দীর্ঘ ১৭ বছর ওই পেশায় নিয়োজিত ছিলাম। ওই পেশায় বেচা-কেনা কম হওয়ায় বাধ্য হয়ে ছেড়ে দিয়েছি। এখন মুদির দোকান দিয়েছি। ৭২ বছর বয়সী নবিরন বেওয়া জানান,আগে ফেরিওলাদের কাছ থেকে জিনিসপাতি কিনতাম।এখন আগের মতো তাদের দেখা যায় না।হয়তো তারা অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে গেছে।