প্রকাশ: ৯ আগস্ট ২০২১, ২১:২৬
সাভারের আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণের (৩৬) মরদেহ উদ্ধার করেছে র্যাব। এ সময় নিহত শিক্ষকের মরদেহটি তার নিজ কলেজের আঙ্গিনা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে র্যাব। স্কুল থেকে লাশের পাঁচটি অংশ উদ্ধার করেছে র্যাব। মাথা আশকোনার একটি ডোবা থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এর আগে গত ১৩ জুলাই (মঙ্গলবার) আশুলিয়ার নরসিংহপুর সংলগ্ন বেরন এলাকার রূপায়ন মাঠের নিজ বাসা স্বপ্ন নিবাস থেকেই নিখোঁজ হন মিন্টু চন্দ্র বর্মণ।নিখোঁজ মিন্টু চন্দ্র বর্মণ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের বাড়াইপাড়া গ্রামের শর্ত বর্মণের ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৩ জুলাই (মঙ্গলবার) আশুলিয়ার জামগড়া সংলগ্ন বেরন এলাকার রূপায়ন মাঠের নিজ বাসা স্বপ্ন নিবাস থেকে নিখোঁজ হন মিন্টু চন্দ্র বর্মণ। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সাত দিন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে অবশেষে ২২ জুলাই আশুলিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন মিন্টুর ছোট ভাই দীপক চন্দ্র বর্মণ। পরে ৯ আগস্ট ছায়া তদন্ত করে তিনজনকে আটক করে লাশের অবস্থান শনাক্ত করে র্যাব।
নিহতের ভাই দীপক চন্দ্র বর্মণ জানান, তার ভাই মিন্টু চন্দ্র বর্মণ দুই বন্ধু মিলে দুই বছর আগে সাভারে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করেন। যার নাম দেন সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। যার অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছিলেন মিন্টু। কিন্তু হঠাৎ ভাই উধাও হয়ে যায়। আজ শুনি ভাইয়ের বন্ধুরাই তাকে হত্যা করেছে। আমি উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।
র্যাব সদর দফতরের মিডিয়া উইংয়ের কমান্ডার মঈন খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রথমে ৭ জুলাই মিন্টুকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে ১৩ জুলাই স্কুলটিতে কোচিং পরবর্তী সময়ে ১০৬ নম্বর শ্রেণিকক্ষে মিন্টুকে ডেকে নিয়ে যায় বাদশা ও মোতালেব। এ সময় মিন্টুর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে বাদশা আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে মরদেহটি ছয় টুকরো করে কলেজ আঙ্গিনায় মাটি খুঁড়ে পাঁচ টুকরো পুতে রাখে ও মাথা রাজধানীর আশকোনার একটি ডোবায় ফেলে দেয়।
তিনি আরও বলেন, মিন্টু বর্মণের সুনাম ও খুব ভালো শিক্ষক হওয়ায় পেশাগত হিংসা শুরু করেন তারা। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ নিয়েও তাদের মধ্যে মনোমালিন্য ছিল। এর জের ধরেই তাকে হত্যা করে তারা।তিনি আর বলেন,হত্তা কান্ডর ঘটনা ঘটিয়ে রবিউল পলাতক ছিল। গতকাল রাতে আব্দুল্লাপুর থেকে রবিউল ও তার ভাগ্নে বাদশাকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে আর মোতালেবকে আশকোনা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে রবিউলের দেওয়া তথ্য মতে, স্কুলের আঙিনা থেকে মিন্টুর শরীরের পাঁচটি অংশ উদ্ধার করা হয়।