
প্রকাশ: ১ জুলাই ২০২১, ১৩:৩৮

ছবি তে যিনি রয়েছেন , তিনি রাসেল মিয়া , মাত্র পাঁচ দিন আগেই তিনি চাকরি শুরু করেছিলেন। তিনি একজন আহত সেদিনের মগবাজার বিস্ফোরণের । সকালেই তার এক সহকর্মীর মৃত্যু হয়।মো. রাসেলকে তা জানানো হয়নি।
কিন্তু একই কক্ষ থেকে একজনকে বের করে নেওয়ার বিষয়টি তিনি হয়তো বুঝতে পেরেছেন বলে ধারণা স্বজনদের। মগবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনার শিকার বেঙ্গল মিটের কর্মী মো. রাসেল (২১) শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।
ঠাকুরগাঁওয়ের একটি সরকারি কলেজে রাসেল স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর চাচা মো.আমিনুর রহমান হাসপাতালে ইনিউজ৭১ কে বলেন, রাসেলের বাবা কৃষক। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি বড়। কলেজ বন্ধ থাকায় তিনি বসে না থেকে নিজে উপার্জনের আশায় ছয় মাস আগে ঢাকায় আসেন। বিস্ফোরণের পাঁচ দিন আগে বেঙ্গল মিটে চাকরি নেন। একটু ভালো থাকার আশা এখন নিভে যাচ্ছে ।


গত রোববার সন্ধ্যায় ভয়াবহ এক বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত নয়জন নিহত হয়েছেন। বার্ন ইনস্টিটিউটে এখনো দুজন আইসিইউতে এবং দুজন সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আজ বুধবার সকাল পৌনে সাতটায় বেঙ্গল মিটের কর্মী ইমরান হোসেন (২৫) মারা যান। তাঁর শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়। এখন আইসিইউতে থাকা রাসেল এবং ভ্যানচালক নূর নবীর শরীরের ৯০ শতাংশও দগ্ধ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
বুধবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নিহত ইমরানের স্বজনেরা আহাজারি করছেন। তাঁর স্ত্রীর কান্না থামাতে পারছে না কেউ। ইমরানের মৃত্যুতে আইসিইউতে থাকা অন্যদের স্বজনদের মনে ভয় ও আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
রাসেলের চাচা মো. মো.আমিনুর রহমান ইনিউজ৭১ কে বলেন , রাসেলের জ্ঞান এখনো আছে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলছেন। রাসেল তাঁদের জানিয়েছেন, সেকেন্ডের মধ্যে আগুনের গোলা দেখেন এবং পরে আর কিছু তাঁর মনে নেই। আমরা আল্লাহের কাছে ফরিয়াদ করছি , আল্লাহ যেন রাসেলকে বাঁচিয়ে রাখেন ।