আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশু প্রস্তুতিতে নতুন রেকর্ড গড়েছে ঝিনাইদহ জেলা। জেলার ছয়টি উপজেলায় বিপুল পরিমাণ গবাদিপশু প্রস্তুত হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পশু সরবরাহের বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ঝিনাইদহে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫৬ হাজার ৯৭৭টি গবাদিপশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। জেলার সদর, শৈলকূপা, হরিণাকুণ্ডু, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর—এই ছয় উপজেলায় মোট ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৯৭টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রস্তুত পশুর মধ্যে গরু রয়েছে ৯৩ হাজার ৫৭২টি, মহিষ ১ হাজার ৩৩৪টি, ছাগল ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৩০টি এবং ভেড়া ৯ হাজার ২৬১টি। এ বছর জেলায় মোট কোরবানির পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪২০টি। ফলে অতিরিক্ত পশু দেশের বিভিন্ন বড় হাট—বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
উপজেলা ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঝিনাইদহ সদর ও শৈলকূপা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত হয়েছে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক প্রজনন পদ্ধতি, খামারিদের পরিশ্রম এবং সরকারি তদারকির কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
হরিণাকুণ্ডুর পায়রাডাঙ্গা গ্রামের খামারি হাফিজুর রহমান বলেন, পশুখাদ্যের দাম কিছুটা বাড়লেও প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালন করা হয়েছে। ক্ষতিকর হরমোন বা ওষুধ ব্যবহার না করায় পশুর স্বাস্থ্য ভালো রয়েছে। বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে খামারিরা লাভবান হবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ এ এস এম আতিকুজ্জামান জানান, ঝিনাইদহ একটি কৃষিনির্ভর জেলা এবং পশুপালন এখানকার বড় অর্থনৈতিক ভিত্তি। কোরবানির হাটে অসুস্থ পশু বিক্রি ঠেকাতে মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি পশু পরিবহনে চাঁদাবাজি বা হয়রানি রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকবে।
তিনি আরও বলেন, উদ্বৃত্ত পশু দেশের কোরবানির বাজার স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে এবার পশুর সংকট হওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং ঝিনাইদহের খামারিরা জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে প্রস্তুত।