
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২১, ১৭:৩১

ফরিদপুরে এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে কপাল পুড়েছে পদ্মা ও মধুমতী নদীর চরের বাদামচাষিদের। রোপণের পর প্রখর খরায় শুকিয়ে যাওয়ার পর ক্ষেতে যা ফসল ছিল তা হঠাৎ বানের পানিতে তলিয়ে গেছে বাদাম ক্ষেত। এ যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন—চলতি বছর ফরিদপুরে পাঁচ হাজার ৯৫২ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়। যার তিন ভাগের দুইভাগ নদীতে পানি বাড়ায় তলিয়ে গেছে।
চাষিরা বলছেন—জেলার চরাঞ্চলের কয়েক হাজার বিঘা জমির বাদাম ক্ষেত এখন পানির তলে। অথচ এখন বাদাম তোলার সময়। এ লোকসান কাটিয়ে উঠতে তারা সরকারি সহায়তা দাবি করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুরের পদ্মা ও মধুমতী নদীর ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষগুলো চরের যেসব ফসলের ওপর নির্ভরশীল, তার মধ্যে বাদাম অন্যতম। ডিসেম্বরের শেষ সময় থেকে তারা জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চরের জমিতে বাদাম রোপণ করেন। মে-জুনে জমি থেকে বাদাম তোলেন।
এবার তারা প্রতি মণ বাদামের বীজ ৯-১০ হাজার টাকায় কিনেছিলেন। এরপর সার, চাষ ও জমি তৈরিতে যা ব্যয় হয়েছে, তার পুরোটাই এবার বাদামচাষিদের লোকসান হতে চলেছে। অন্যান্য বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করেও মোটামুটি ফলন পেয়েও চাষিরা ছিলেন খুশি।
কিন্তু এ বছর বাদাম চাষ শুরুর পর থেকেই চাষিদের কপালে যেন অনেকটা শনির দশা নেমে আসে। একদিকে প্রখর খরা, অন্যদিকে হঠাৎ বানের পানি। এই দুইয়ে মিলে এবার বাদামচাষিদের স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।