
প্রকাশ: ২ জুন ২০২১, ১০:২

পত্রিকার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানোর গুজবে পত্রিকা ‘বিক্রি কমে যাওয়া' সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকা, স্কুল কলেজ বন্ধ করে দেওয়াই সাভার আশুলিয়ার হকারদের আয়ও কমে গেছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
এমনই একটি পত্রিকার সেন্টার হচ্ছে আশুলিয়ার নবীনগর সেন্টার। যেখান থেকেই আশুলিয়ার থানার প্রত্যেক যায়গায় পত্রিকা পৌছায়। যেমন বাইপাইল, নবীনগর ক্যান্টারমেন্ট, রপ্তানি, বিকেএসপি, জামগড়া ফেন্টাসি কিংডমসহ আশুলিয়ার সকল গুরুত্বপূর্ণ যায়গায়।কিন্তু করোনার কারণে সরকারি দফতরসহ বিভিন্ন জায়গায় পত্রিকা যাওয়া প্রায় বন্ধ।
আমরা কথা বলেছি পত্রিকার ফেরিওয়ালা কয়েকজন হকারের সাথে। এমনই একজন পত্রিকার হকার মোঃ ময়নাল মিয়া। তিনি বলেন, আমি বিশ বছর যাবত এ ব্যবসার সাথে জরিত। আমার ব্যবসার বয়সে এত খারাপ অবস্তা কখনো হয় নাই। আমি বিকেএসপি এলাকায় পত্রিকা বিলি করি আজ এক বছরের উপরে করোনা ভাইরাসের দোহাই দিয়ে আমাকে বিকেএসপিতে ডুকতে দেই না। আমাদের জীনব এখন কিভাবে চলছে একমাত্র আল্লাহ যানে।
ময়নালের কথা সেস না হতেই আরেক জন চোখের কোনে পানি নিয়ে বলতে লাগলো আজকে একটা বছর আমার তিনশত পত্রিকার ভেতর একশ বিশ কপি পত্রিকা চলে। ছেলে মেয়েকে ঠিকমত খাওয়াতে পারি না। পড়ালেখাতো কল্পোনাও করতে পারি না। বাসা ভাড়া আটকা পড়ছে সাত মাস। বাড়ি ওয়ালা চিল্লাচিল্লি করে। বাড়িতে মা-বাবা আছে তাদের খোঁজ খবর নিতে পারি না।মোস্তাফা কামাল নামের আরেকজন এক প্রকার আক্ষেপ করে বলেন, আমি বিয়ে পাস করেছি, এটা আমাদের বাপ দাদার ব্যবসা আমাদের রক্তে মিসে আছে এই ব্যবসা। তাই আর অন্য কোথায় যেতে পারি না।


তিনি আরও বলেন, আমরা রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে পাঠকের হাতে পত্রিকা পৌঁছে দেয়। আমাদের দ্বারা মানুষ জানতে পারে সমাজের ভাল মন্দ। কিন্তু এই দেশে আমাদের কষ্টের কোন মূল্য নাই। করোনা ভাইরাসের কারনে সবাই ত্রাণ পেলেও আমরা কিছুই পাই নাই। এলাকার কোন মেম্বার চেয়ারম্যান বা সরকারী কোন কর্মকর্তা আমাদের খোঁজ খবর নেই নাই।
বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয় নবীনগর সেন্টারের দায়িত্বে থাকা ডিস্ট্রিবিউটর মোঃ নেছার উদ্দিন খান এর সাথে। তিনি বলেন, পত্রিকা থেকে নাকি করোনা ভাইরাস ছরায়। তাই মানুষ এখন আর কাগজ পড়ে না৷আমি এই সেন্টারের দায়িত্বে আছি প্রায় বার বছর। পত্রিকা ব্যবসার খারাপ অবস্তা এর আগে এমন কখনো হয় নাই।আমার সেন্টারে পত্রিকা চলতো ছোট বড় মিলিয়ে বার হাজার। ডেইলি সেল ছিল পয়তাল্লিশ হাজার থেকে ৫০হাজার টাকা। আর এখন তা দাঁড়িয়েছে মাত্র আঠার বিশ হাজারের কাছে। আগে হকার ছিল ষাট জন এখন আছে চল্লিশ জন। ভবিষ্যতে কি হবে এই ব্যবসার তা আল্লাহ এই ভাল যানে।