
প্রকাশ: ৩০ মে ২০২১, ১৯:০

অতি প্রবল ঘূনিঝড় ইয়াসের প্রভাব, জোয়ার ও জলোচ্ছাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁসে গড়ে দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার এই সৈকতের বেশ কয়েকটি পাকা স্থাপনার আংশিক ধসে পড়েছে। উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছপালা।
সৈকত লাগোয়া প্রায় শতাধিক আচার, ঝিনুক, আলোকচিত্রী ও শুটিকর দোকান বিধ্বস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে সৈকতের কোলঘেঁসে গড়ে ওঠা অসংখ্য ঝুপড়ি ঘর। তবে সৈকতের ভাঙন ঠেকাতে প্রতিরক্ষা কাজ চলমান থাকায় ক্ষতি অনেকটা কম হয়েছে বলে দাবি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের।
স্থায়ী সংস্করের জন্য প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রনালয়ে পাঠানোর কথা বলেন কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো.হালিম সালেহীন।
প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে পানি উন্নয়ন বোর্ড সৈকত সুরক্ষায় জিও টিউব দিয়ে অস্থায়ীভাবে সৈকত রক্ষার চেষ্টা চালায়। যেটা কোন কাজে আসেনা। তাই সৈকত রক্ষায় গ্রোয়েন বাঁধ নির্মানের দাবি স্থানীয়দের।

ট্যুরিজম ব্যাবসায়ী বাচ্চু জানান, কুয়াকাটা সৈকত এলাকার জাতীয় উদ্যানের শতাধিক গাছ উপড়ে পড়েছে। মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে কুয়াকাটার ৪৮ নম্বর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মাঝিবাড়ি পয়েন্ট ও পশ্চিম খাজুরা এলাকা। এখানকার বাঁধের বাইরের পাশের ঢালে যে সিমেন্টের ব্লকগুলো ফেলা হয়েছিল, তা পুরোনো হয়ে যাওয়ায় পানির চাপে ধ্বসে পড়ছে।
ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা(টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার আজকের পত্রিকাকে জানান, কুয়াকাটা সৈকত লাগোয়া বেড়িবাঁধের বাইরের দুই শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান মারাত্নক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনিতেই লগডাউনের কারণে এইসব ব্যাবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে বেকার। তার উপর এই ক্ষতি পুশিয়ে নেয়া কষ্টকর হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হোসেন আজকের পত্রিকাকে জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলেপল্লী, শুটকি মার্কেট, ঝিনুক মার্কেট এবং ক্যামেরা পট্টি। দুইশতাধিক দোকান সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ট্যুরিস্ট পার্ক, পাবলিক টয়লেট সহ গুরুত্বপূর্ণ দোকানপাট। সৈকত-সংলগ্ন গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের ঘরের মেঝেতে পানি উঠে গেছে। সাগরের ঢেউ এসে আঁছড়ে পড়ছে সৈকতে যাতায়াতের পিঁচঢালা সড়কের ওপর।
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো.হালিম সালেহীন জানান, কলাপাড়ায় মোট সামুদ্রিক জলোচ্ছাস নিয়ন্ত্রন বেড়িবাঁধ পাঁচশত ১৫ কিলোমিটার, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ২৩ দশমিক আট কিলোমিটার। ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ জরুরী ভিক্তিতে সংস্কারের জন্য আমরা ব্যাবস্থা গ্রহন করছি। স্থায়ী সংস্করের জন্য প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।