বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দ্রুত পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। প্রযুক্তি জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন প্রতিযোগিতায় নেমেছে আরও উন্নত এআই প্রযুক্তি তৈরিতে। বিশেষ করে OpenAI, Google এবং Microsoft নতুন প্রজন্মের এআই প্ল্যাটফর্ম উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সাল প্রযুক্তিখাতে “এআই ট্রান্সফরমেশন ইয়ার” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অফিস ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সংবাদমাধ্যম, সফটওয়্যার উন্নয়ন এমনকি কৃষি খাতেও এআই ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট তৈরি, ভাষা অনুবাদ, ডাটা বিশ্লেষণ এবং সাইবার নিরাপত্তায় এআই এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন ও কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ডিভাইসেই এআই সুবিধা যুক্ত করা শুরু করেছে। ফলে ইন্টারনেট ছাড়াই ছবি সম্পাদনা, ভয়েস সহকারী, লাইভ অনুবাদ ও ব্যক্তিগত সহায়তা সেবা পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “অন-ডিভাইস এআই” প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সুরক্ষায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
একই সঙ্গে প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানের ধরনেও পরিবর্তন আসছে। প্রচলিত কিছু চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়লেও ডাটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং, সাইবার সিকিউরিটি ও ক্লাউড কম্পিউটিং খাতে নতুন চাকরির সুযোগ বাড়ছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর তরুণদের জন্য এটি বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশেও ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এআই গবেষণা, স্টার্টআপ বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ বাড়ানো হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিক নীতিমালা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা গেলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
তবে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির পাশাপাশি ভুয়া তথ্য, ডিপফেইক কনটেন্ট, ডাটা নিরাপত্তা ও নৈতিক ব্যবহারের প্রশ্নও গুরুত্ব পাচ্ছে। তাই বিশেষজ্ঞরা এআই ব্যবহারে আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও দায়িত্বশীল প্রযুক্তি উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছেন।