
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২১, ২১:২৬

অক্সিজেন সেচুরেশন লেভেলসহ সার্বিক সবকিছু আগের মতো ঠিকঠাক থাকায় মাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরে গেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই ব্যাংক কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান। আজ শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিজের মাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করেই বাড়িতে ফিরে গেছেন তিনি।
জিয়াউল হাসান জানান, বাড়িতে ফেরার মা তার দৈনন্দিন কাজ সম্পাদন করে ওযু করে নামাজ পরেছেন, খাবারও ঠিকভাবে খেতে পরেছেন। তাকে নিজের ঘরে হাটাচলা করতে দেখে নিজের কাছেই আজ খুব ভালো লাগছে।
এদিকে কৃষি ব্যাংকের ঝালকাঠি সদর শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান তার ফেসবুক আইডি থেকেও একটি পোষ্ট দিয়েছেন, যেখানে তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ করেছেন। তার সেই লেকাটি পাঠকদের জন্য হুবুহু তলে ধরা হলো--- “_এ বিজয় অদ্যাবধি জীবনের শ্রেষ্ঠ বিজয়।
৬ দিন মুমূর্ষু মা-কে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি রেখে পুরোপুরি সুস্থ করে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ!
অক্সিজেন সেচুরেশন ৭০ অবস্থায় মা-কে বাচাঁনোর নিমিত্তে নিজ শরীরে ৮ লিটার মাত্রার চলমান ২০ কেজি ওজনের অক্সিজেন সিলিন্ডার বেধে যে বাইকে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলাম, আজ মমতাময়ী মা তার ফুসফুসে অক্সিজেন সেচুরেশন ৯৬ নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে সেই বাইকে করেই। এ যেন আল্লাহর নেয়ামত।
সমগ্র দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা, যাদের আন্তরিক দোয়ায় আমার মা-কে মহান আল্লাহ এ যাত্রায় সুস্থ করে দিলেন। ❤”
উল্লেখ্য নিজের শরীরের সঙ্গে গামছা দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মোটরসাইকেলে করে নিজের মাকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন জিয়াউল হাসান নামের ওই ব্যাংক কর্মকর্তা।

বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মায়ের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর শনিবার (১৭ এপ্রিল)দিবাগত রাত পৌনে ১২টায় ওই ব্যাংক কর্মকর্তা ছেলের সঙ্গে কথা হয় ।
তখন তিনি জানিয়েছিলেন, কোনো উপায় না পেয়ে মাকে এভাবে অক্সিজেন দিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সূর্যপাশা এলাকার বাড়ি থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে আসতে হয় তাকে।
তার মা রেহেনা পারভীন ঝালকাঠির নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা। মাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে চেপে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ শেবাচিম হাসপাতালে আসেন জিয়াউল হাসান। তখন তার পাশে অপর মোটরসাইকেলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছোট ভাই রাকিবুল হাসানও আসেন।
এরপর এই দুইভাই শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে থেকে মায়ের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যান। যদিও এরমাঝেই হাসপাতালের নীচতলায় রাখা জিয়াউল হাসানের মোটরসাইকেলের ওপর থেকে কালো হেলমেটটি চুরি হয়ে যায়।
জিয়াউল হাসান বলেন, ৯ ও ১৫ এপ্রিলের রিপোর্ট ১৭ এপ্রিল রাতে পরপর দুটি আলাদা ম্যাসেজে জানতে পারি। যেখানে ৯ তারিখের রিপোর্টেই মা করোনা পজেটিভ ছিলেন। সেই হিসেবে ১৪ দিনের বেশি হয়ে গেছে তার আক্রান্তের সময়।
চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রেখে যখন তাকে সুস্থ মনে হয়েছে তখনই তাকে নিয়ে বাসায় এসেছি। কাল হয়তো আবার নমুনা পরীক্ষা দিবো। তবে মা এখন পুরোই স্বাভাবিক রয়েছেন।