
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২১, ১২:১৪

চলমান লকডাউনকে কেন্দ্র করে আবারও জরুরি চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত এক চিকিৎসক দম্পতির গাড়ির বিরুদ্ধে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মামুনুর নামে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনায় ট্রাফিক রমনা বিভাগের একজন পুলিশ সার্জেন্ট এই মামলা দায়ের করেন।
ওই চিকিৎসক দম্পতি জানিয়েছেন, সরকার জরুরি সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের লকডাউনের আওতামুক্ত রাখলেও মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত কর্মকর্তারা তা মানছেন না। এটা খুবই দুঃখজনক মন্তব্য করে বিষয়টিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
যোগাযোগ করা হলে ট্রাফিকের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার জয়দেব চৌধুরী বলেন, চিকিৎসকদের গাড়ি যেন না আটকানো হয় বা মামলা না করা হয় এজন্য বারবার আমরা মাঠে কর্মরত সদস্যদের নির্দেশনা দিয়ে আসছি। এরপরও মাঝে মধ্যে কিছু ভুল হচ্ছে।
কোনও চিকিৎসকের গাড়ির বিরুদ্ধে যদি মামলা হয়ে থাকে তাকে আমার কার্যালয়ে আসার অনুরোধ করছি। আমরা জরিমানার বিষয়টি মওকুফ করার ব্যবস্থা করবো। অনেক সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশনা দিলে আমাদের আর কিছু করার থাকে না বলে জানান তিনি।
গত ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহব্যাপী কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনে একাধিক চিকিৎসক রাস্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দ্বারা হেনস্তা হওয়ার অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলতে থাকে। এরপর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট দুটি ঘটনার বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দেয়াও হয়। একই সঙ্গে সড়কে পুলিশের কোনও সদস্য অপেশাদার আচরণ করলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও মাঠপর্যায়ে অনেকেই এই নির্দেশনা মানছেন না। সম্প্রতি এক নারী চিকিৎসকের সঙ্গে কর্তব্যরত পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আইডি কার্ড ও মুভমেন্ট পাস দেখানো নিয়ে তর্কাতর্কির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এরমধ্যেই আরেক চিকিৎসক দম্পতি তাদের ব্যক্তিগত গাড়ির বিরুদ্ধে সাড়ে ৫ হাজার টাকার জরিমানার অভিযোগ করেছেন।

এনামুল কবির খান নামে ওই চিকিৎসক জানান, তিনি সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি হয়েছেন। তার স্ত্রী ডা. কামরুন নাহার মুক্তা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তারা হাতিরপুল কাঁচাবাজার এলাকার একটি বাসায় থাকেন। রবিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে তার স্ত্রী ডা. কামরুন নাহার মুক্তা ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বাসা থেকে কর্মস্থল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান।
ফেরার সময় বাটা সিগন্যাল এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুনের নির্দেশে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট তাদের গাড়িটি থামান। পরে গাড়িচালক জানান, হাসপাতালে নামিয়ে দিয়ে বাসায় ফিরছেন তিনি। কিন্তু এতেও ট্রাফিক সার্জেন্ট সরকারি নির্দেশনা ভায়োলেশন ও সড়ক অবরোধের অভিযোগ এনে তাদের গাড়ির বিরুদ্ধে সাড়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
চিকিৎসক এনামুল কবির খান বলেন, ‘আমার স্ত্রী হাসপাতালে নেমে তার আইডি কার্ডটি চালকের কাছে দিয়েছিল, যাতে রাস্তায় পুলিশ আটকালে দেখাতে পারে। এছাড়া আমি নিজেও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে মামলা দেওয়া হচ্ছে জানায়। পরে আমি ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলতে চাই। তিনি আমার সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।’
#ইনিউজ৭১/জিহাদ/২০২১