
প্রকাশ: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ৩:২৮

গ্রামবাংলার অধিকাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। কৃষি প্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ। ফসল উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করে এদেশের কৃষক পরিবারগুলো। চাষাবাদের পাশাপাশি পশুপালন করেও লাভবান হচ্ছে চাষীরা। বাংলাদেশে গৃহপালিত পশুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পালন করা হয় গরু। গরুর খাদ্য হিসেবে সবুজ ঘাস, বিচালি, পোয়াল, খৈল, ভুট্টাসহ বর্তমানে বিভিন্ন আধুনিক খাদ্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
মেহেরপুর জেলায় ৪শটি বাণিজ্যিকসহ ২৮ হাজার পারিবারিক খামারি রয়েছে। জেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পারিবারিক ও বাণিজ্যিক খামারে ১ লাখ ৮৪ হাজারের উপরে গবাদিপশু পালন করা হচ্ছে।
এসমস্ত গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে জেলায় ব্যাপক ভাবে চাষ করা হচ্ছে বিলাতী জব ঘাসের। সবুজ ঘাসের মধ্যে স্বল্প সময়ে ফলনশীল বিলাতী জবের চাষ জেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকের পাশাপাশি খামারিরাও লাভবান হচ্ছে। সকাল বেলায় এবং বিকেল বেলায় জেলার বিভিন্ন বাজারসহ নানান স্থানে এই ঘাস বিক্রি করছে ব্যাবসায়ীরা।
প্রতিদিন ঘাস বিক্রি করে সংসারের হাল ধরা গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামের মতিয়ার রহমান ই-নিউজ৭১'কে জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে বিলাতী জব ঘাস লাগিয়ে প্রতিদিন সকাল এবং সন্ধ্যায় বিক্রি করেন। ২০ থেকে ৪০ টাকা হালায় বিক্রি হয় এই ঘাস।

তিনি আরো জানান, খামারিরা তাদের মতো ঘাস ব্যাবসায়ীদের সাথে চুক্তি করে প্রতিদিন প্রয়োজন মতো ঘাস ক্রয় করে এবং মাসিক ভাবে টাকা প্রদান করে। ঘাস উৎপাদন এবং বিক্রি করে তিনি সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে পেয়েছেন।
জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইদুর রহমান ই-নিউজ৭১'কে বলেন, বিলাতী জব ঘাস গোখাদ্য হিসেবে জনপ্রিয় উঠেছে কিন্তু এই ঘাস গরুর স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু উপকারী সেবিষয়ে গবেষণা চলছে। তবে, ঘাসটি কৃষকেরা আগ্রহের সাথে চাষ করছে স্বল্প সময় এবং স্বল্প পরিশ্রমের জন্য।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার খাঁ ই-নিউজ৭১'কে বলেন, এই ঘাস উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ হওয়ায় ব্যাপক চাষ হয়েছে জেলায়। আগামীতে যাতে আরো ভালো ভাবে কৃষকরা কৃষিকাজে সফল হয় সেবিষয়ে আমরা সবসময় পরামর্শ প্রদান করছি।