
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২১, ৯:৩১

মুঘল আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন আরিফাইল মসজিদ -১৬৬২ ঈসায়ী সালে কারুকাজ আর চুনা পাথরের সৌন্দর্যময় মসজিদটি সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের আরিফাইল গ্রামে অবস্হিত। সরাইল উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে মসজিদটির অবস্থান।
ঐতিহাসিক এ মসজিদটি সরাইলবাসীর পুরনো স্মৃতি বহনকারী, অনেকের ভাষ্যমতে ঐতিহাসিক মসজিদটিকে নিয়ে অনেক কল্প কাহিনি রয়েছে।
সরেজমিনে জানাযায়,বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সরাইল বিশ্বরোড় থেকে এসে সিএনজি থেকে সরাসরি আসা যায়, উপজেলা পরিষদ থেকে রিকশা কি-বা পায়ে হেঁটে ও যাওয়া যায়।
ঐতিহাসিক মসজিদের নামের সাথে জড়িত আরিফাইল গ্রাম ঘুরে জানা যায়, মসজিদটির পাশেই বিশাল আয়তনের একটি দীঘির অবস্হান। যার নাম সাগর দীঘি। মসজিদের দঙ্গিণ পাশে রয়েছে দুটি কবর, যা জোড়া কবর নামে পরিচিত।

এই মসজিদের আয়তন ৭০-২০ ফুট, দেওয়ালের পুরুত্ব ৫ফুট ৬ ইঞ্চি, স্হাপত্য কলা কৌশল ও অপুর্ব নির্মাণে মসজিদটিকে দেখতে দুর- দুর- দুরান্ত থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজন দেখতে আসে। প্রায় ৩০০ বছর পুর্বে নির্মিত মসজিদটি এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ন নিদর্শন।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আশরাফ উদ্দিন( মন্তু) এ প্রতিনিধিকে বলেন, বতর্মানে বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের অধীনে, মসজিদটি প্রত্ন সম্পদ হিসাবে ঘোষিত হয়েছে। তিনি বলেন, মসজিদের কাজকর্ম সবই মসজিদের মুসল্লিরা করে থাকে।
ঐতিহাসিকদের মতে, একদা ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী সরাইল বারো ভূইঁয়ার একজন ঈঁশা খাঁর শাসনে ছিল।
তৎসময় ঈঁশা খাঁ এ- মসজিদ ও পার্শ্ববর্তী জোড়া কবর নির্মাণ করেন। অন্য একটি অংশের মত, ঈঁশা খাঁর দুই স্ত্রী সমাধি সৌধ হলো।জোড়া কবর, আবার অনেকের ধারণা কবর দুইটির প্রকৃত তথ্য অনাবিষ্কৃত।
নানা কারণে জোড়া কবর রহস্যবৃত, এই রহস্যে অনেকটা প্রভাব রেখেছে কবর, দুইটি থেকে নিচে অনেক গভীর যাওয়ার একটি সরঙ্গ, যার শেষ কোথায় তার ধারণা কারো নেই। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হলেও সত্য মসজিদটিতে ঢুকে দেখা গেছে ভেতরকার যে কোনো শব্দ দেওয়ালের অতিপুরুত্বের কারণে বাধা পেয়ে একটা ভৌতিক প্রতিধ্বনি রূপে ফিরে আসে, এ মসজিদটি সরাইলের মুসলিম জাতির স্মৃতি বহণ করে।