আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর পর টুর্নামেন্টটি বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছিল পাকিস্তানও। যদিও শেষ পর্যন্ত পুরো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান, তবে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নেবে, কিন্তু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না। সরকারের এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) একটি বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
আইসিসি জানিয়েছে, তারা সদস্য দেশগুলোর সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য ভালো হবে না এবং পাকিস্তানসহ সারা বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের জন্য হতাশাজনক।
আইসিসি পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলেছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পিসিবির উচিত দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের ওপর এর দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর প্রভাব বিবেচনা করা। কারণ, এই সিদ্ধান্ত সামগ্রিক বিশ্ব ক্রিকেট কাঠামোর ক্ষতি করতে পারে, যার একটি অংশ পিসিবি নিজেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই মুহূর্তে আইসিসির প্রধান লক্ষ্য হলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করা। এটি সব সদস্য দেশের যৌথ দায়িত্ব। সংস্থাটি প্রত্যাশা করছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করা হবে।
এদিকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের বিষয়ে পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে কোনো চিঠি দিয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে পাকিস্তান যদি সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তাহলে গুরুতর পরিণতি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির সার্বভৌমত্ব ও স্বায়ত্তশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত সংস্থাটি সহজে মেনে নেবে না। আইসিসি কোনো ভুল নজির স্থাপন করতে চায় না এবং শেষ মুহূর্তে কোনো বোর্ড কর্তৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে— পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) জন্য অন্য বোর্ডগুলোর খেলোয়াড়দের এনওসি না দেওয়া, পাকিস্তানকে এশিয়া কাপ থেকে নিষিদ্ধ করা এবং আইসিসির রাজস্ব বণ্টন থেকে পিসিবির অংশ প্রত্যাহার করা।