মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ৯০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো জনবল সংকট, অপর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা এবং স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে ধুঁকছে। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও ১৫৫টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ১৪৪টি পদ শূন্য রয়েছে। মাত্র ২ জন কর্মকর্তা ও ৯ জন কর্মচারী দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে পৌরসভার কার্যক্রম। একই সঙ্গে স্থায়ী ময়লার ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় কলেজ রোডের খোলা স্থানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পৌরসভা সূত্র জানায়, প্রকৌশল বিভাগের ৬৮টি পদের মধ্যে ৫২টি, প্রশাসনিক বিভাগের ৫৪টির মধ্যে ৪৯টি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ৩৩টির সবকটি পদই শূন্য। ফলে পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি, বাসস্ট্যান্ড, পার্কিং, শিক্ষা, খেলাধুলা, বিনোদন ও সৌন্দর্যবর্ধনের মতো মৌলিক নাগরিক সেবা কাঙ্ক্ষিতভাবে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
১৯৩৫ সালে ২ দশমিক ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত শ্রীমঙ্গল পৌরসভা ২০০২ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হলেও এখনো আয়তন বাড়েনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত ও ছড়া দখল, ভাঙাচোরা সড়ক, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা এখন নিয়মিত সমস্যা। স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় কলেজ রোডে বর্জ্যের স্তূপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।
টিআইবির সহযোগী সংগঠন অ্যাকটিভ সিটিজেন গ্রুপের সদস্য আশিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, দুই যুগ আগে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পেলেও নাগরিক সেবার মান সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা রায়হান ভুইয়া জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণের কথা শুনলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। পৌরবাসী মনহত শর্মা বলেন, জনসংখ্যা ও পর্যটক বাড়লেও এখনো স্থায়ী ভাগাড় গড়ে ওঠেনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কলেজ রোডের ভাগাড়ে অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। চারদিকে ময়লার স্তূপ, দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রবে স্থানীয়দের দুর্ভোগ বাড়ছে।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৭ সালে নতুন ভাগাড়ের জন্য ২ দশমিক ৪৩ একর জমি কেনা হলেও মামলার কারণে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, জনবল নিয়োগের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া ২১ কোটি ২৮ লাখ ৩০ হাজার টাকার স্যানিটারি ল্যান্ডফিল ও ফিকাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, সীমিত জনবল নিয়েও সেবা দেওয়া হচ্ছে। জনবল নিয়োগ, পৌরসভা সম্প্রসারণ এবং স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।