গ্রীষ্ম এলেই মৌলভীবাজারের পাহাড়, টিলা, চা-বাগান ও বনাঞ্চলে চোখে পড়ে এক বিশেষ ফল—চাম কাঁঠাল। সবুজ চা-বাগান আর টিলাবেষ্টিত প্রকৃতির মাঝে গাছের কাণ্ডজুড়ে ঝুলে থাকা এই ছোট আকারের ফল যেন প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্যের অংশ হয়ে ওঠে। স্থানীয়ভাবে এটি ‘চাপালিশ’ নামেও পরিচিত। দেখতে অনেকটা কাঁঠালের মতো হলেও আকারে ছোট এবং স্বাদে টক-মিষ্টি হওয়ায় সাধারণ কাঁঠাল থেকে এটি আলাদা।
সম্প্রতি সরেজমিনে কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে কয়েকটি চাম কাঁঠালের গাছে প্রচুর ফল দেখা গেছে। পাহাড়ি এই ফল বর্তমানে মৌসুমি ফলের পাশাপাশি মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভানুগাছ রোড রেলগেইট এলাকার বিক্রেতা আজিজুর রহমান জানান, কয়েক বছর আগে চাম কাঁঠাল অনেকটাই দুর্লভ হয়ে পড়েছিল। তবে এ বছর আবার প্রচুর ফল ধরেছে। আগে প্রতিটি ফল ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে আকারভেদে ৬০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি শমসেরনগর থেকে ফল সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন। তার ভাষ্য, ফলটির পরিচিতি ও চাহিদা বাড়ায় পাইকারি দামও অনেক বেড়েছে।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে মৌলভীবাজারে বেড়াতে আসা স্কুলশিক্ষার্থী ইয়াসমিন চৌধুরী বলেন, জীবনে প্রথমবার চাম কাঁঠাল দেখেছেন ও খেয়েছেন। দেখতে কাঁঠালের মতো হলেও ছোট ছোট টক-মিষ্টি কোষের স্বাদ তার কাছে ব্যতিক্রমী লেগেছে। তিনি ঢাকায় ফেরার সময় আত্মীয়-স্বজনের জন্যও কয়েকটি ফল কিনে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়রা জানান, এই ফলকে চাম্বল, চাম্বুল, কাঁঠালি চাম্বুল, চাম ফল, চাপালিশ ফল, বুনো কাঁঠালসহ বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। এর বিচি ভেজে খাওয়া যায় এবং ভাজার পর স্বাদ অনেকটা চিনাবাদামের মতো হয়। একসময় ফলটি বিলুপ্তির পথে থাকলেও বন বিভাগের উদ্যোগে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ব্যাপকভাবে চাপালিশ গাছ রোপণ করায় আবারও এর বিস্তার ঘটছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চাপালিশের বৈজ্ঞানিক নাম Artocarpus chaplasha এবং ইংরেজি নাম Monkey Jack। বাংলাদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, মধুপুর, রাঙামাটি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় এ গাছ পাওয়া যায়। এছাড়া ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, লাওস, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়াতেও এর বিস্তৃতি রয়েছে।