
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৪, ১৭:২৭

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকা না থাকার সংবাদে মন খারাপ আওয়ামী লীগের অনেক এমপির। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের জরুরি সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকা না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই সংবাদে দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা খুশি হয়েছেন। কিন্তু হতাশ অধিকাংশ দলীয় এমপি। বিশেষ করে গত দুই মেয়াদের আওয়ামী লীগের এমপিরা এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না। এই হতাশা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঘরোয়া আলোচনায়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়টি ইনিউজ ৭১ কে নিশ্চিত করেছে।
আওয়ামী লীগের এমপিরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলের সব নেতাকর্মীর জন্য ওপেন করে দেয়ার ফলে তাদের কর্তৃত্ব খর্ব হবে। এর ফলে এমপিদের সহযোগিতা ও উপজেলা কমিটির সুপারিশ নিয়ে দলীয় প্রতীক পাওয়ার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হবে না চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের। নৌকার মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তারা নিতেও পারবেন না কোনো অর্থ। এর বাইরে স্থানীয়ভাবে নেতৃত্ব নির্বাচন এবং সংগঠনে নিজের শক্তিশালী অবস্থান ও প্রভাব ধরে রাখার জন্য স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকার মনোনয়ন তাদের (স্থানীয় এমপিদের) জন্য বড় একটি অস্ত্র ছিল।

আওয়ামী লীগের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের সরকারের আমলে ২০১৫ সালে নির্দলীয় ব্যবস্থা থেকে দলীয় প্রতীকের যুগে প্রবেশ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তখন থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে উপজেলা/থানা আওয়ামী লীগের রেজুলেশনের মাধ্যমে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের নামের তালিকা পাঠানোর নিয়ম করে দেওয়া হয়। এই তালিকা ও অন্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড সারা দেশে উপজেলা এবং পৌরসভার নির্বাচনে চেয়ারম্যান এবং মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করে আসছে।
কিন্তু তৃণমূল থেকে বঞ্চিতরা বরাবরই অভিযোগ করে এসেছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের রেজুলেশন করার আগে ভোটাভুটির ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেছেন এমপি অথবা অর্থ বাণিজ্যের কারণে পালটে গেছে রেজুলেশন। সেখানে যার নাম এক নম্বরে থাকার কথা ছিল তাকে রাখা হয়েছে পেছনে। এ ধরনের শত শত অভিযোগ ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে জমা হতে দেখা গেছে। তাদের অধিকাংশই এমপির প্রভাব ও অর্থের কাছে পরাজিত হয়েছেন। আবার ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভাপতির অফিসের একটি সিন্ডিকেট তৃণমূল নেতাকর্মীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দলীয় এমপিদের হয়ে কাজ করেছে। এর ফলে যোগ্যরা মনোনয়ন বঞ্চিত হন।