
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৩, ১:৪০

বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি নেই প্রায় দুই মাস। বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ঘোষণার পর মহানগর ছাত্রলীগের মধ্যে বিভক্তি শুরু হয়। এরই মধ্যে গত ১৫ মে মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। বিভক্ত ছাত্রলীগ নেতারা যে যার মতো নগরীর ওয়ার্ড ও কলেজ শাখার কমিটি ঘোষণা দিচ্ছে। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজেই ১১টি কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কমিটি ঘোষণার পর অভিনন্দন ও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হুংকার দিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এ নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিবদমান দুই পক্ষের এক পক্ষে আছেন গত ১৫ মে বিলুপ্ত মহানগর ছাত্রলীগ কমিটির নেতারা। তারা সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর সমর্থক। অপরপক্ষে আছেন নবনির্বাচিত মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহর সমর্থক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তারা ২০১২ সাল থেকে বরিশালে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সাবেক মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরনের অনুসারী ছিলেন তারা। ২০১৮ সালে সাদিক আবদুল্লাহ মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর হিরন সমর্থক ছাত্রলীগ নেতারা কোণঠাসা হয়ে রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় হন। আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় নতুন করে উজ্জীবিত তারা।
খায়েরপন্থিদের অভিযোগ, সিটি নির্বাচনের পর সাদিক আবদুল্লাহ নগর রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে বিলুপ্ত ছাত্রলীগ নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র করছেন। বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক রইজ আহমেদ মান্না ও যুগ্ম আহ্বায়করা পেছনের তারিখে (বিলুপ্ত হওয়ার আগে) স্বাক্ষর দেখিয়ে কিছুদিন আগে ৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা দেন। এরপরেই নড়েচড়ে বসেন খায়েরপন্থি সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা। বিএম কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন তুষার তাঁর ফেসবুক পেজে সাদিক আবদুল্লাহকে ইঙ্গিত করে লেখেন, ‘ব্যাক ডেটে কমিটি দেওয়ার চেষ্টা করলে তোর মহানগর আওয়ামী লীগ কমিটি খাব।’
মঈন তুষার বলেন, সাদিক অনুসারীরা ভুয়া কমিটি গঠন করে বিএম কলেজ, হাতেম আলী কলেজ, বরিশাল কলেজ, পলিটেকনিক কলেজ ও ৩০টি ওয়ার্ড কমিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে। এর জবাবে আমরাও সকল ওয়ার্ড ও কলেজ শাখায় পাল্টা কমিটি দিয়েছি। তুষার স্বীকার করেন, দুই পক্ষের কারও কমিটিরই বৈধতা নেই। প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে যে যার মতো ওয়ার্ড ও কলেজ কমিটি ঘোষণা দিচ্ছে। এ নিয়ে অস্থিরতা চলছে।

সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ছাত্র কর্মপরিষদের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ মুন্না বলেন, সাদিক অনুসারী ছাত্রলীগ নেতারা ভুয়া কমিটি দিচ্ছেন। তারা বলছেন, বিলুপ্ত হওয়ার আগে এসব কমিটি গঠন করেছেন। এখন প্রকাশ করছেন। ৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিটি সংগঠনের বিষয় প্যাডে প্রকাশ করেছিলেন সাদিকপন্থিরা। মুন্না বলেন, এ নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখালে এখন ফেসবুকে কমিটি দেওয়া হচ্ছে। বিএম কলেজে এস.আর আকাশকে আহ্বায়ক ও সোহানকে সদস্য সচিব করে কমিটি দিয়েছে সাদিকপন্থিরা। খায়েরপন্থিরা রিফাত ও কামরুলকে যথাক্রমে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব করে পাল্টা কমিটি ঘোষণা দেয়। খায়েরপন্থি আরও কয়েকজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নিজ অনুসারীদের নিয়ে পাল্টা কমিটি দেওয়ায় কমিটির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১। ওয়ার্ডগুলোতেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে জানান মুন্না।
এসব বিষয়ে জানতে বিলুপ্ত মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রইছ আহমেদ মান্নাকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও রিসিভ করেননি। মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাইনুল ইসলাম বলেন, মহানগর কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার আগে তারা নগরের ৩০টি ওয়ার্ড এবং সব কলেজ ইউনিট কমিটি গঠন সম্পন্ন করেছিলেন। ১ থেকে ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিটি প্রকাশ করা হয়। এরপর সিটি নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় বিরোধে বাকি কমিটিগুলো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। মাইনুল দাবি করেন, প্রকাশ না করা কমিটিগুলো তারা প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে একটি পক্ষ পাল্টা কমিটি ঘোষণার নামে ছাত্রলীগ নিয়ে তামাশা করছে।