
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৩, ১:৪০

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত জননেতা মরহুম আবদুুল জলিলের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী আজ। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ ৭৪ বছর বয়সে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য এবং নওগাঁ সদর আসন থেকে নির্বাচিত একজন জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলেন।
বাবাকে হারানোয় খুব বেশি নাড়া দেয় আবদুল জলিলের ছেলে নওগাঁ -৫ (সদর আসনের) সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জনকে। বাবার স্মৃতি সব সময় মনে পড়ে তার। বাবার আর্দশ ও বাবার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ করে যাচ্ছেন দেশের সর্ব কনিষ্ঠ এই সংসদ সদস্য।
ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন বলেন, বাবার জন্মদিন উপলক্ষ্যে জেলা আওয়ামী লীগ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ, পৌর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, আব্দুল জলিল ফাউন্ডেশন ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। আমার ফুফু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এই আসনে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। নওগাঁ ৫ আসনের মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। তার জন্য আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। বাবা ছিলেন গণমানুষের নেতা। এই দিনটি আসলে অনেক কষ্ট হয়। এই দিনে বাবাকে হারিয়ে ছিলাম। বাবাকে ভুলে থাকতে পারিনা এক পারিনা এক মুহূর্তও।
জন বলেন, বাবার স্মৃতি খুব গভীরভাবে মনে নাড়া দেয়। সব সময় বাবার কথা মনে পড়ে। বাবার মত করেই সবার পাশে সুখে-দুঃখে থাকতে চাই। বাবাকে সবাই যেভাবে ভালবাসতেন ঠিক তেমনি করেই আমাকেও সবাই ভালোবাসেন ও স্নেহ করেন বলেই আমি জনপ্রতিনিধি হতে পেরেছি। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই আমার নির্বাচনী আসনে। সেই লক্ষেই কাজ করে যাচ্ছি। সেই সাথে সবার সহযোগিতা কামনা করছি। বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া করবেন।


তিনি আরও বলেন, একজন আব্দুল জলিল শুধু নওগাঁর মানুষের কাছে নয়, সারাদেশের মানুষের কাছে প্রিয় ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাবা লন্ডন থেকে দেশে এসে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। একটিই লক্ষ্য ছিল দেশ ও দেশের মানুষকে মুক্ত করা। আমি গর্বিত তার সন্তান হিসেবে। আমার প্রিয় বাবা ওপারে ভালো থাকুক এই দোয়া করি সব সময়।
উল্লেখ্য- প্রয়াত জননেতা আবদুল জলিল ১৯৩৯ সালের ২১ জানুয়ারি নওগাঁ সদর উপজেলার চকপ্রাণ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ফয়েজউদ্দিন আহমেদ এবং মাতার নাম জারিনা ফায়েজ। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মরহুম নেতার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। তিনি নওগাঁ কে. ডি. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৭ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। রাজশাহী কলেজে ভর্তি হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। স্কুল ও কলেজজীবন শেষে ১৯৬০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিএ (সম্মান) এবং ১৯৬৪ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি আইন বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা নিতে লন্ডন যান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে দেশে ফিরে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। বর্ষীয়ান নেতা আবদুল জলিল ১৯৯৮-২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন।
১৯৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন, গণতন্ত্র এবং ভোটের লড়াইয়ে তিনি ছিলেন সামনের সারির নেতা। ২০০২ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আবদুল জলিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সদালাপী, কর্মীবান্ধব ও উদার মনের এই ব্যক্তিত্ব দলমত নির্বিশেষে সবার শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন।