
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ৪:৪৫

বরিশাল মহানগর বিএনপির আহবায় কমিটি ঘোষণার পর পক্ষে বিপক্ষে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কেউবা পদ হারানোর শংকা, কেউবা আবার নতুন নেতৃত্বে সামিল হওয়ার চেষ্টা। আর এ শংকায় রয়েছে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারপন্থী নেতাকর্মীরাই। তবে সদ্য ঘোষিত বরিশাল মহানগর বিএনপি নেতাদের দাবী ত্যাগী ও কোনঠাসা হয়ে পড়া নেতাকর্মীরাই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও পাবেন। সেক্ষেত্রে সমালোচনা ত্যাগ করে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনে দলকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে মনোযোগ দেয়ার আহবান জানান নেতারা। এছাড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হলে সব অভিযোগের অবসান ঘটবে বলেও মনে করেন আহবায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ।
সদ্য ঘোষিত বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একপক্ষের দাবী দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত অনেক নেতাকর্মী সদ্য ঘোষিত কমিটিতে বাদ পড়েছেন। এছাড়া ঘোষিত আহবায়ক কমিটিতে জ্যেষ্ঠতা মানা হয়নি। অপরপক্ষের দাবী, দীর্ঘদিন যে সব নেতাকর্মীকে কোনঠাসা করে রাখা হয়েছিল সদ্য ঘোষিত কমিটিতে তাদেরকে স্থান দেয়ার পাশাপাশি পুরনো কমিটির প্রায় ৫০ ভাগ সদস্যকে রাখা হয়েছে।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বরিশাল বিএনপির রাজনীতিতে একক আধিপত্য ধরে রাখা দলের যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ারকে সরিয়ে মহানগর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষিত হয় গত বছরের ৩ নভেম্বর। একই দিনে বরিশাল দক্ষিণ এবং উত্তরের কমিটিও বাতিল করে ঘোষণা হয় আহ্বায়ক কমিটি। ওই ৩ কমিটিতে আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব হিসেবে যে ৭ জনের নাম ঘোষণা হয়, তারা প্রায় সবাই সরোয়ারবিরোধী পক্ষ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ বছর সরোয়ারের একক আধিপত্য আর নেতৃত্ব ধরে রাখার অপকৌশলের কারণে এই ঘোষণায় বেশ খুশিও হয় দলের বড় একটি অংশ। তবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় জেলা (দক্ষিণ) ও মহানগরের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর। এই দুই কমিটি থেকে এমন অনেকে বাদ পড়েছেন যারা আজীবন নিঃস্বার্থ বিএনপি কর্মী। দলের জন্য হামলা মামলা নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতারাও রয়েছেন এ তালিকায়। ২২ জানুয়ারি রাতে আহবায়ক কমিটির তালিকা প্রকাশের পর এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানান মন্তব্য লিখছেন। কেউবা আবার নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ করে সমালোচনা করছেন, কেউবা প্রশ্ন তুলেছেন জ্যেষ্ঠতা নিয়ে। মাঠ পর্যায়ের বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে এমন অনেকে বাদ পড়েছেন যারা বিএনপির ত্যাগী পরীক্ষিত নেতা। এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মহানগর কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আকবর, সহ-সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ, আহসানুল কবির, আব্বাস উদ্দিন বাবলা, আলমগীর হোসেন আলম, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ জামাল হোসেন নোমান এবং জলবায়ু ও পরিবশ বিষয়ক সম্পাদ সাজ্জাদ হোসেনসহ অনেকে। অবশ্য সদ্য ঘোষিত আহবায়ক কমিটিতে সরোয়ারের আধিপত্যে কোণঠাসা হয়ে থাকা ৯০-এর গণআন্দোলনের অনেক ছাত্র নেতাসহ পরীক্ষিতরা ঠাঁই পেয়েছেন কমিটিতে। মহানগরের ৪২ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটিতে যারা ঠাঁই পেয়েছেন, তাদের মধ্যে সরোয়ারের ঘনিষ্ঠ অনুসারীর সংখ্যা হাতে গোনা। অবশ্য এসকল নেতাদের অনেকেই আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পরপরই পক্ষ ত্যাগ করে ভিড়ে গিয়েছিলেন নতুন নেতাদের সঙ্গে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাই সহসাই বলছেন, “কোন পথে হাটছে বরিশাল মহানগর বিএনপি?”

এসব নিয়ে আলোচনা হয় সদ্য ঘোষিত বরিশাল মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকের সাথে। তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। তাই কমিটি ঘোষণার পর আলোচনা সমালোচনা থাকবে এটা যেমন স্বাভাবিক। আবার নতুন নেতৃত্বকে নিয়ে দলকে সুসংগঠিত করতে সবাই অংশগ্রহণ করবেন এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চান দলে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হোক। আর তার নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যাদেরকে যোগ্য মনে করেছেন তাদেরকেই কমিটিতে স্থান দিয়েছেন। বরিশাল থেকে যে তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল সেই মোতাবেক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু ভুল থাকতে পারে, তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলে কোন অভিযোগ থাকবে না। এ লক্ষ্যে শীঘ্রই পরিচিতি সভা এবং ওয়ার্ড কমিটিগুলো করা হবে বলে জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, বরিশালবাসী জানেন দীর্ঘদিন একক আধিপত্যের কারণে অনেকেই রাজনীতিতে আগ্রহ হারিয়েছেন, অনেককেই কোনঠাসা করে রাখা হয়েছিল। তবে আগামীতে মহানগর বিএনপিতে নেতৃত্ব গড়ে তুলতে যা যা প্রয়োজন তার সবই করা হবে। এছাড়া নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ কোন পক্ষ বিপক্ষ বা বিভাজন সৃষ্টি করবে না। সকলকে সাথে নিয়েই দলের আগামী দিনের সকল আন্দোলন সংগ্রাম চালানো হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সদ্য কমিটি ঘোষণার পর বরিশালে বিএনপির যে কর্মসূচি পালিত হয়েছে তাতে তৃণমূল নেতাকর্মীরা স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং পূর্বের তুলনায় মহানগর বিএনপি অনেক শক্তিশালী।