
প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২১, ৪:৩৯

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে আয়োজিত সমাবেশ ঘিরে সিরাজগঞ্জ শহরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা হয়েছে। উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও বেশ কিছু হাত বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে।
এ সংঘর্ষ চলাকালে তিনজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও বেশ কয়েকজনের হাতে ধারালো রামদা দেখা যায়। সংঘর্ষের সময় তোলা এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজ এ প্রতিবেদকের সংগ্রহে রয়েছে। তবে এদের রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি কেউ।
এদিকে, এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দেখে এদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ। পুলিশ বলছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
বিএনপির সমাবেশ ঘিরে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ রোডে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বিকেল ৪টার দিকে এ স্থানের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আসলেও পরে তা শহরের দত্তবাড়ি সড়ক, ইলিয়ট ব্রিজ ও রেলগেট এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার জন্য বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা পরস্পরকে দায়ী করেছেন।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েল বলেন, বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরের ইসলামিয়া কলেজ মাঠে সমাবেশে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক শ্লোগান দেয় এবং ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। এতে বাধা দিলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সাথে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সরকারি ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন কাটাখালি সেতুর কাছে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে তাদের ২০/২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন যুবলীগ নেতা জুয়েল।
পাল্টা অভিযোগ করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানস বাচ্চু বলেন, নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশে আসার পথে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাতে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তাদের ৩০/৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
তবে ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশও হয়েছে। দুপুর ২টার দিকে শুরু হওয়া সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
অস্ত্রের বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম বলেন, 'সংঘর্ষ চলাকালে যদি কেউ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার করে থাকে, ভিডিও ফুটেজ দেখে তা সনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে মিডিয়ায় প্রচারিত ভিডিও এবং সংঘর্ষের এলাকার সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে তা যাচাই বাচাই করা হবে।'