
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২০, ৩:২৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্প্রতি টেলিফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। জানা গেছে, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ অঞ্চলের কূটনৈতিক মহলও নড়েচড়ে বসেছে। কারণ এ মুহূর্তে চীন-ভারত দ্বন্দ্ব চলছে। পাকিস্তান যেহেতু চীনের মদদপুষ্ট, সে কারণে হাসিনাকে ইমরানের টেলিফোন একটি বড় ঘটনাই। বাংলাদেশ যদি ইমরানের আহ্বানে সাড়া দেয় তবে চীন-ভারত দ্বন্দ্বের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে কিছুটা পরিষ্কার ধারণাও জন্ম নিতে পারে, যা এ অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
কিন্তু সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এটা সম্ভব নয়। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির ওপর পাকিস্তান যে গণহত্যা চালিয়েছে, তার জন্য এখনও তারা প্রকাশ্যে ক্ষমা চায়নি। উপরন্তু গণহত্যায় প্রত্যক্ষ অংশ নেওয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় পাকিস্তান প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করেছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক যে পর্যায়ে রয়েছে এর বাইরে নতুন করে সম্পর্কের উন্নতি সম্ভব নয়।
বিচার ও ফাঁসির রায় কার্যকরের প্রতিবাদ জানিয়ে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে উত্তপ্ত আলোচনা ও নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়। ওই সময় বিষয়টি জাতিসংঘে তোলার কথাও বলে পাকিস্তান। এমন কি তখন ইমরান খানের পার্টি এবং ইমরান খান (তখন ক্ষমতার বাইরে ছিলেন) নিজে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করেছেন। এ বিষয়টি নিয়ে তিনি উস্কানিমূলক বক্তব্যও দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ফাঁসির বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠিও দিয়েছিলেন। এসব কারণে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অবনতির সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়।
