জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬। এর ফলে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হলো এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই বহাল থাকছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। দিনের সম্পূরক কার্যসূচির অংশ হিসেবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিলটি উপস্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন। প্রথম পাঠ শেষে স্পিকারের আহ্বানে বিলটি পুনরায় বিবেচনার জন্য উত্থাপন করা হয়। দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় বিলটি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।
বিলের চূড়ান্ত পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে জানান, তুলনামূলক একটি শিট তারা মাত্র কয়েক মিনিট আগে হাতে পেয়েছেন এবং আইনটি স্পর্শকাতর হওয়ায় কিছু সময় চেয়েছিলেন। তবে স্পিকার জানান, আপত্তি জানানোর নির্ধারিত সময় অতিক্রম হওয়ায় এই পর্যায়ে আপত্তি গ্রহণের সুযোগ নেই।
বিল পাসের আগে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ না করে বলেন, এটি একটি ‘গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠন’ নিষিদ্ধকরণ-সংক্রান্ত সংশোধনী। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দেশে জনমত সৃষ্টি হওয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় সংগঠনটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে তাদের নিবন্ধন স্থগিত রেখেছে।
তিনি আরও জানান, এই আইনের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংগঠনের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং পরবর্তীতে আইসিটি আইনেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধনের দ্বিতীয় পাঠ বা প্রথম পাঠের পর আপত্তি জানালে আলোচনা সম্ভব ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধানের ক্ষমতাবলে অধ্যাদেশ জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে সেই অধ্যাদেশ এখন পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হলো।