বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট বিশ্ববিপর্যয়ের এই সময়ে গণমাধ্যমের প্রয়োজন অনেক বেড়ে গেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী নিউজ কনজাম্পশন অনেক বেড়ে গেছে। আগে যাঁরা নিয়মিত গণমাধ্যমের সঙ্গে সংযোগ রাখতেন না, ব্যস্ততার কারণে সংবাদপত্র পড়ার সুযোগ পেতেন না, তাঁরাও এখন ঘরে বন্দি অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন।
গণমাধ্যমই এই সংকটের সময়ে মানুষকে তথ্য দিচ্ছে, তথ্যের বিশ্লেষণ উপস্থাপন করছে। সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে, সারা দেশ, সারা বিশ্ব এখন কোন জায়গায় অবস্থান করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রন্টলাইনে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের মধ্যে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যেমন আছেন, এর সঙ্গে যুক্ত আছে গণমাধ্যমও। গণমাধ্যম ছাড়া তো মানুষ অন্ধকারে থাকবে। এই অবস্থায় গণমাধ্যমের কর্মী, সাংবাদিক, সম্পাদক, কলাকুশলী, সম্প্রচার ও মুদ্রণ মাধ্যমে যাঁরা আছেন, তাঁরাও এখন প্রথম সারির সৈনিক হিসেবে কাজ করছেন। সে কারণে গণমাধ্যমসংশ্লিষ্টদের ঝুঁকিও অনেক বেড়ে গেছে। সংবাদকর্মীদেরও সেসব জায়গায় যেতে হচ্ছে যেখানে করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছেন, যেখান থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটছে, সেসব জায়গায় গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা তথ্য তুলে আনছেন, ছবি সংগ্রহ করছেন। এটা করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে পড়ছেন। কিন্তু এই কাজ না করেও তো কোনো উপায় নেই। পৃথিবীকে তো চলতে হবে, থেমে থাকলে হবে না। এসব কারণে গণমাধ্যমের যে গুরুত্ব সেটা সাধারণ মানুষ উপলব্ধি করছে, সারা বিশ্ব উপলব্ধি করছে।
দুর্যোগের এই সময়ে একজন চিকিৎসাকর্মী যে প্রস্তুতি ও সুরক্ষা নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে যাচ্ছেন, মাঠে কাজ করতে যাওয়া একজন সংবাদকর্মীর জন্যও একই গুরুত্ব দিয়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যে সংবাদকর্মী মাঠে যাচ্ছেন না, কিন্তু অফিসে কাজ করছেন তাঁকেও ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় করোনাযুদ্ধের ফ্রন্টলাইনের অন্যান্য যোদ্ধার জন্য যেভাবে ঝুঁকি ভাতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, একইভাবে সংবাদকর্মীদের জন্যও ঝুঁকি ভাতার ব্যবস্থা, প্রণোদনার ব্যবস্থা করা দরকার, সেটি সারা বিশ্বই উপলব্ধি করছে।