
প্রকাশ: ১ মার্চ ২০২০, ১৬:৩৪

ইউটিউব দেখছিলাম। হুইল চেয়ারে বসে আছেন এন্ড্রু কিশোর। গাইছেন, ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, যা কিছু দেখার নাও দেখে নাও, যা কিছু বলার যাও বলে যাও, পাবে না সময় আর হয়তো।’ আহারে! অসাধারণ এই শিল্পী ভালো নেই। শরীরে ভয়াবহ রোগ বাসা বেঁধেছে। অনেক দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন সিঙ্গাপুরে। দেশবাসীর প্রার্থনাকে সঙ্গে নিয়ে লড়ছেন কঠিন অসুখের সঙ্গে। এর মাঝে ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে সহযোদ্ধাদের সঙ্গে যান কিছুক্ষণের জন্য একটি অনুষ্ঠানে। সে অনুষ্ঠানের আয়োজনও কিশোরের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। এ অনুষ্ঠানেই হুইল চেয়ারে বসে গাইলেন গানটির কিছু অংশ।
আমাকে একজন শুভাকাঙ্ক্ষী বললেন, আপনি এত কথা কেন বলেন? জবাবে তাকে শোনালাম জীবনানন্দ দাশের কবিতার এ লাইনটি, ‘কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!’ কেউই চায় না। আমিও চাই না। তার পরও হৃদয় খুঁড়ে বেদনারা বেরিয়ে আসে। সত্যিকারে ভালোবাসা থাকলেই কষ্ট থাকে। এ ভালোবাসা দলের প্রতি, দেশের প্রতি, জীবন ও সংসারের প্রতি। ভালোবাসা মানে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার গোপন সাতকাহন নয়। ছোট্ট একটা জীবনে কত কিছুই জড়িয়ে থাকে আমাদের জীবনে। অনেক কিছুই প্রকাশ হয় না। থেকে যায় আড়ালে। তাই তো জীবনানন্দ দাশ আরও লিখেছেন, ‘হায় চিল, সোনালী ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে/তুমি আর উড়ে-উড়ে কেঁদোনাকো ধানসিড়ি নদীটির পাশে!’

সমাজের সবখানেই কেন জানি একটা ঝামেলা চলছে। ইউটিউবে কিছু ওয়াজ মাহফিলের ভিডিও ক্লিপ দেখলাম। আজকাল অনেকে ইনবক্স করে অনেক কিছু পাঠান। সবচেয়ে বেশি পেয়েছি পাপিয়ার পাপের ভিডিও। ভয়ঙ্কর। আমাদের রাজনীতির নোংরামির শেষটা দেখতে হলো। আর ওয়াজের ভিডিও দেখে আরও হতাশ হলাম। একজনকে দেখলাম চিৎকার করছেন- ওরে বাটপার, ওরে বাটপার। বুঝলাম, আরেক মাওলানাকে তিনি গালাগাল করছেন। আরেকজনকে দেখলাম চিৎকার করে গান করছেন। অন্য একজন মুখে ফেনা তুলতে তুলতে চেয়ার থেকে পড়ে গেলেন।ইউটিউবের ওয়াজগুলোয় নিজের বড়াই আর গালাগাল ছাড়া কিছুই নেই। আমার এক চাচা ছিলেন মাওলানা, আরেকজন মৌলভি। তারাও ওয়াজ করতেন একটা শালীনতা নিয়ে, সম্মান নিয়ে। ধর্মের বয়ান করতেন, আল্লাহ-রসুলের কথা বলতেন। কাউকে গালাগাল করতে দেখিনি। ওলি-আউলিয়ার দেশ বাংলাদেশ। এভাবে আলেমসমাজ একজন নিজেকে বড় করতে গিয়ে আরেকজনকে নিয়ে নোংরামি কেন করবেন? আমাদের দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। ছোটবেলা থেকে নিজেও ওয়াজ-মাহফিলে যাই। কয়েক শ ওয়াজে অতিথিও ছিলাম। বক্তব্য রেখেছি। নিজে শুনেছি। এখনো ওয়াজ-মাহফিলের আয়োজকরা অতিথি করে আমন্ত্রণ জানান। সময়ের অভাবে যেতে পারি না। কিন্তু ধর্মীয় ওয়াজের এমন হাল জীবনেও দেখিনি।
সময়টা বড্ড খারাপ সবখানে। ধর্ম-কর্ম সবকিছুতে বিবাদের আগুন। হিংসার আগুনে পড়ে সবাই সবার বারোটা বাজাচ্ছে। এ সংস্কৃতি দীর্ঘমেয়াদে সবার জন্যই ক্ষতিকর। দিল্লির সাম্প্রদায়িক আগুন দেখে একজন বললেন, প্রতিবেশীর বাড়িতে আগুন ধরলে তার ধোঁয়া আপনার ঘরও আচ্ছন্ন করবে। ধর্মের আগুন আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে বারবার।তবে বর্তমান বাস্তবতায় একটি কথাই বলছি, সহনশীল ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। এ দৃষ্টান্ত আগামীর দুনিয়াকে আরও আলোকিত করবে। নিশ্চিহ্ন করবে অন্ধকারকে। আমরা আলোর পথযাত্রী হয়ে থাকতে চাই। সবখানে দৃষ্টান্ত রাখতে চাই সহনশীলতার।
ইনিউজ৭১ /০১মার্চ/
সংবাদটি শেয়ার করুন