প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯:২৬

দেশের চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্নভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা ও অপেক্ষা করা ছাড়া আপাতত বড় কোনো বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে সিপিডি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এবং সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এফএসআরইউ সচল না থাকায় আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতিতে দ্রুত নতুন করে গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোও সম্ভব নয়। ফলে সংকটের প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে পড়ছে।
তিনি জানান, ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর থেকেই বর্তমান সংকটের সূত্রপাত। টার্মিনাল মেরামতের কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। বিদেশি প্রকৌশলীরা বর্তমানে মেরামতকাজে যুক্ত রয়েছেন এবং তাদের কাজ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

সংকটের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানান মন্ত্রী। বিশেষ করে শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকদের ওপর লোডশেডিংয়ের চাপ যাতে তুলনামূলক কম থাকে, সে বিষয়ে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে এফএসআরইউ মেরামতের পর নতুন দুটি বয়লার একসঙ্গে চালু করতে হবে। কারিগরি সমন্বয়ের কারণে ওই সময় পুরো সিস্টেম প্রায় ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখার প্রয়োজন হতে পারে। এতে সাময়িকভাবে দেশে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে একটি নতুন এফএসআরইউর অর্ডার দেওয়া হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে আরও তিনটি এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
শিল্প খাতে গ্যাসের ঘাটতি কমাতে বিকল্প ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। ভোলা থেকে কনটেইনার ট্রাকে গ্যাস বিভিন্ন কারখানায় পৌঁছে দিতে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০টি ট্রাক পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কনটেইনারের মাধ্যমে সরাসরি গ্যাস সরবরাহের সুযোগ তৈরি করতে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

