
প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৬

বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতি সংরক্ষণে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, প্রেক্ষাপট এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় রাজধানীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাদুঘরের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তি, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই সময়ের নানা ঘটনা, আন্দোলনের দলিল, আলোকচিত্র, ব্যবহৃত সামগ্রী এবং স্মারক একত্রে সংরক্ষণের মাধ্যমে ইতিহাসকে প্রামাণ্যভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। তিনি সংরক্ষিত আলোকচিত্র, দলিলপত্র, ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং বিভিন্ন স্মারক পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ের ঘটনাবলি তুলে ধরা প্রদর্শনীও ঘুরে দেখেন।

এর আগে মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাদুঘর উদ্বোধনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি জানান, উদ্বোধনের দিনটি বিশেষ অতিথি এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরের দরজা খুলে দেওয়া হবে। দর্শনার্থীরা নির্ধারিত সময়ে এসে বিভিন্ন গ্যালারি পরিদর্শনের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত সংরক্ষিত তথ্য ও উপকরণ সম্পর্কে জানতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই জাদুঘর শুধু একটি প্রদর্শনী কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং গবেষণা, ইতিহাসচর্চা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনা ও ঐতিহাসিক সচেতনতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেবে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে এখানে আরও নতুন তথ্য, দলিল, আলোকচিত্র এবং স্মারক যুক্ত করা হবে, যাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ ও প্রামাণ্যভাবে দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা যায়।