প্রকাশ: ৭ জুলাই ২০২৬, ১৭:৪৪

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দীর্ঘদিন পর আবারও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই নতুন ব্যবস্থাপনায় কর্মী পাঠানো শুরু করা যাবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই আগের তুলনায় ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
নতুন ব্যবস্থায় রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচনের দায়িত্ব থাকবে বাংলাদেশের হাতে। এর মাধ্যমে অতীতে আলোচিত সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং অনিয়মের অভিযোগ কমিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, কর্মীদের বিনা খরচে বা ন্যূনতম ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা না গেলে অতীতের মতো অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আবারও সামনে আসতে পারে, যা শ্রমবাজারের স্থায়িত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ইতিহাসে একাধিকবার স্থবিরতা এসেছে। ২০০৮ সালে অনিয়মের অভিযোগে শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৬ সালে তা পুনরায় চালু হলেও ২০১৮ সালে আবারও নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এরপর ২০২২ সালের আগস্টে নতুন করে কর্মী পাঠানো শুরু হলেও ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, ২০২৪ সালে বিভিন্ন জটিলতার কারণে মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে পাঠানোর দায়িত্ব সরকারি সংস্থা বোয়েসেলকে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে সক্ষম হয়েছেন।
অবশিষ্ট কর্মীদের দ্রুত পাঠানোর পাশাপাশি নতুন কর্মীদের জন্য স্বচ্ছ ও ব্যয়মুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।